ভাল থাকুন, ভাল রাখুন

Share

কাজল ব্যাংকে চাকরি করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস করে বাসায় গিয়ে হাসিমুখে বাসার কাজ যেমন রান্না করা, ছোট বোনকে পড়ানো, অসুস্থ মায়ের দেখভাল, সব কিছু খুব আনন্দের সাথে করতে থাকে কোন ক্লান্তি ছাড়াই। তার আশেপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখা এমনকি নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজ, ছবি আঁকারও সময় বের করেন তিনি। তার মতে তিনি বেশ সুখী জীবনযাপন করছেন। একদিন কাজলের সহকর্মী তার কাছে জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ করছিল। “এত কাজ করতে ভাল লাগে! অফিসের ডেডলাইন মাথায় রাখো, বাসার কাজ, বিল দাও! কাজ করতে করতে একদিন মরেই যাব! জীবনে শান্তি বলতে কিচ্ছু নেই আর।” এমনটি ছিল তার অভিযোগ। কাজল সবকিছু শুনে তাকে জীবনে ভাল থাকার কিছু উপায় বললেন যেটা কাজল মনে করেন জীবনে ব্যালেন্সড ভাবে বাঁচতে সাহায্য করে।

কাজল যে উপায়ে তার জীবনযাপন করছেন তাকে পারমা(PERMA) মডেল বলা হয়। নামটি এসেছে ৫টি ক্ষেত্রবিশেষ মিলিয়ে:Positive emotions, Engagement, Relationships, Meaning of life এবং Achievement থেকে।  পারমা মডেল অনুযায়ী, ৫টি ক্ষেত্রবিশেষ মেনে চললে জীবনে সুখী থাকা সম্ভব। প্রথমত, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। জীবনে যা কিছু ঘটেছে বা ঘটছে তাকে খারাপভাবে বা নেতিবাচক ভাবে না নি স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া। যত দ্রুত একটি বিষয় স্বাভাবিকভাবে নেয়া যাবে, জীবন তত বেশি সহজ হবে। কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে ভাল আউটকাম কি হয়েছে তা যদি খুঁজে বের করা যায় তাহলে বুঝা যাবে একজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যাক্তি।

জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ভাল লাগার কাজটির সাথে লেগে থাকুন যেটাকে এ্যাংগেজমেন্ট বলা হয়। লিখতে, বই পড়তে বা ছবি আঁকতে পছন্দ করেন? সময় করে আপনার নিজের জন্য লেখা, বই পড়া বা ছবি এঁকে ফেলুন। এতে নিজের মনের রেফ্রেশমেন্ট হবে যার ফলে আপনার দৈনন্দিন কাজে কোন ক্নান্তি আসবে না।

আমরা সামাজিক জীব হওয়ায় মানুষের সান্নিধ্য আমাদের প্রয়োজন। তাই আমাদের পরিবার, আশেপাশের মানুষ এবং বন্ধুদের সাথে কোয়ালিটি সম্পর্ক ও সময় কাটানোর মাধ্যমে একজন মানসিকভাবে স্ট্রেস ফ্রী থাকতে পারেন। কারণ ভাল সম্পর্কের ফলে একধরনের মানসিক সার্পোট পাওয়া যায় যেটা আমাদের জীবন অনেকক্ষাণিক সহজ করে দেয়।

এখন একটি বাস্তব উদাহরণের দিকে তাকানো যাক। সেলিব্রিটিদের আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং এত খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে দেখা যায় তারা নিজ জীবনে অসুখী কিংবা অনেকে তো আত্মহত্যা করে বসেন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাই শুধুমাত্র একজন মানুষকে সুখী করতে পারে না। তা ছাড়াও আমাদের জীবনের একটি অর্থ বা লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য ছাড়া আমাদের জীবনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়। লক্ষ্য বা অর্থ যে খুব বড় হতে হবে তা না, খুব ছোটও হতে পারে যেটা নিজেকে আনন্দ দিবে। কোন অর্থ বা লক্ষ্য না থাকলে জীবনের সাথে জড়বস্তুর কোন পার্থক্য থাকে না।

জীবনে যা অর্জন, ছোট বা বড়, সেগুলোকে মূল্যায়ন করতে শিখি। মূল্যায়ন করলে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামনে আরো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। মূল্যায়ন একটি পজিতিভ প্র্যাক্টিস যেটার কারণে নিজের ভাল দিকগুলোর দিকে ফোকাস করা যায় যেটি সামনে আরো কিছু অর্জনের চাবিকাঠি।

বিজ্ঞানীরা নানা উপায়ে জীবনে ভাল থাকার উপায় বলে গেছেন। তারপরেও জীবনে সুখী থাকার উপায় মানুষভেদে ভিন্ন হয়। তবে আমরা শুধুমাত্র একটি ব্যাসিক উপায় হিসেবে এই পারমা মডেল মেনে চলতে পারি। জীবনে ভাল থাকা কিংবা সুখী থাকাটা একটি বড় অর্জন। নিজে ভাল  থাকলেই আমরা আমাদের চারপাশের মানুষদের ভাল রাখতে পারবো।

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share