চিন্তার কাছে দাসত্ব

Share

১)ফাইজা ফাস্ট ইয়ারে পড়ে। তার বন্ধু সংখ্যা খুব কম। আরাফ সবসময় ওর সাথেই থাকে। ফাইজা মেয়েটা সবসময় সবকিছু নিয়ে Over confused  থাকে। রুটিন  থাকা স্বত্বেও আরাফকে ফোন দিয়ে কখন, কোন ক্লাস  সিওর হওয়া চাইই । প্রায়ই এমন হয় আরাফকে একটানা ২৫-৩০  বার কল দেয় ক্লাস  টাইম জানার জন্য । শুরুতে আরাফের ধারণা ছিল ওকেই শুধু এতবার কল দেয়,  বিরক্ত করে। কিন্তু ও সবাইকে  এতবার কল দেয়। ফাইজার আরেকটা সমস্যা হলো দরজার লক বার বার চেক করা। গত সপ্তাহে  Statistics ক্লাস মিস করেছে, বাসার গেইট বন্ধ করেছে কিনা তা সিওর হবার জন্য বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসায় ফিরে গিয়ে দেখে এসেছে গেইট  ঠিক মতো  বন্ধ করেছে কিনা। ফাইজা নিজের আচরণে প্রায়ই কষ্ট পায়।বাসার লোকজনও চায় ফাইজা আগের মতো হয়ে যাক।

২)আরাফের প্রতিবেশি মতিন আংকেল, কলেজের শিক্ষক। উনার একটি সমস্যা হলো বার বার হাত ধোয়া। ভদ্রলোক ৩ ঘন্টার মতো সময় নিয়ে গোছল করেন।উনার কাছে সবকিছু  অপরিষ্কার লাগে।  মোবাইল, টাকা, রিমোট ধরার পর বার বার হাত ধোয়া লাগে উনার । সহকর্মী বা বাসার সবাই উনার উপর খুব  বিরক্ত।

##ফাইজা বা মতিন আংকেল এক ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত। যার নাম অবসেসিভ -কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। যা সংক্ষেপে ওসিডি(OCD) নামে পরিচিত। যা চিন্তার কাছে দাসত্ব নামেও অবিহিত। এ রোগের লক্ষ্মণ গুলো হলোঃ

-বার বার একই কাজ বা একই চিন্তা করা,

-কোনো কাজ খুব বেশি নিখুঁত ভাবে করার চেষ্টা করা, বেশি দুশ্চিন্তা করা,

-হাত ধোয়া বার বার, ঘনঘন ঘর পরিষ্কার করা,

– পুরনো ও অদরকারি জিনিস জমিয়ে রাখা

-দরজার লক বার বার চেক করা ইত্যাদি।

কারণঃ

অনেক কারণে একজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কারণ গুলো হলো –

১.হতাশা, মানসিক চাপ

২.বংশগত কারণেও অনেকে এ রোগে  আক্রান্ত হতে পারে

৩.মস্তিষ্কে বেশি পরিমাণে সেরোটোনিন থাকলে

৪.নিউরোট্রান্সমিটার এ ডিসফাংশন দেখা দিলে (ব্রেইন তখন বার বার একই কাজ করতে  সিগন্যাল দেয় )

চিকিৎসা:

১)মেডিটেশন, যোগ ব্যায়াম খুব উপকারী রোগ নিরাময়ে কারণ এর মাধ্যমে রোগী তার অবসেসিভ ব্যবহার উপলব্ধি করে।

২)ব্যক্তিগত সমালোচনা পরিহার করতে হবে,রোগীকে বুঝাতে হবে একই কাজ বার বার করার কোনো দরকার নেই।

৩)ব্রেইনের ফাংশন স্বাভাবিক করতে ঔষধ নিতে হবে

৪) কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি :রোগীর আচরণে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগ মুক্তি। এ থেরাপি দুভাবে কাজ করে,

এক্সপোজার – যে বিষয়ে রোগীর মনে  খুঁতখুঁতে চিন্তা আসে তার মুখোমুখি করা রোগীকে।

রোগীকে বুঝানো অযথা চিন্তা করছে তুচ্ছ বিষয় বা কাজ নিয়ে।

রেসপন্স প্রিভেনশন – রোগী যে কাজটি বার বার  করতে চায় তা করতে না দেয়া।এবং বুঝানো কাজটি বার বার করার কোনো মানে নেই ।

অনেক সময়  রোগীকে ভালো করতে আর অবসেসিভ চিন্তা দূর   ডায়েরি লিখতে বলা হয়। পছন্দের কাজ বা বন্ধুদের বেশি সময় দিতে উৎসাহ দেয়া হয় ।

লিখেছেন – তাহমিনা সুলতানা ইভা

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share