মাইন্ডফুলনেস – বর্তমানে থাকুন

Share

সাহানা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।প্রতিদিনের হাজারো কাজের চাপে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছিলেন।এই দিশেহারা অবস্থা থেকে বের হতে তিনি নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছেন।
কক্সবাজারের সুবিশাল জলরাশী ও অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্যে থেকেও সাহানা অস্থির হয়ে আছেন বিভিন্ন চিন্তা নিয়ে।তিনি ভাবছেন তার এই মুহুর্তে কক্সবাজার না এসে অফিসের কাজ করা উচিত ছিল,ছুটিশেষে সে কিভাবে এতকাজ একসাথে সামলে নিবে,এছাড়া আরো কত কাজ তার পরে আছে,আগেও সে কাজে ফাঁকি দিয়েছিল যার জন্য তাকে খেসারত দিতে হয়েছিল ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে তার নিজস্ব চিন্তার জগতে হারিয়ে গেলো এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তার আর উপভোগ করা হয়ে উঠলনা।

একটু ভেবে দেখুন তো আপনার সাথেও কি এরকমটা হয়?

এমন অনেক সময় হয় যে আমরা কারো সাথে কথা বলছি,বা বই পড়ছি কিন্তু আমাদের মন পড়ে আছে নিজেদের চিন্তা,আশংকা,ব্যাকুলতা,আশা-হতাশা,উদ্বিগ্নতা ভবিষ্যত নিয়ে অথবা অতীতের স্মৃতিরোমন্থন নিয়ে।আর বর্তমান সময়ে আমাদের মোবাইল ফোন,সোস্যাল মিডিয়া,মেইল,টেক্সট ইত্যাদি অতি সহজেই আমাদেরকে অন্যমনস্ক করে তোলে।প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সময়গুলোতে অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে করতে আমরা আমাদের বর্তমান মুহুর্তটিতে আর মনোযোগ দিতে পারিনা।

কিভাবে অতীত ও বর্তমানের হাজারো চিন্তা থেকে মনকে সড়িয়ে বর্তমানে ধরে রাখা যায়?

“মাইন্ডফুলনেস”যা আপনাকে আত্ম-পরিবর্তন ও আত্ম-সমৃদ্ধিতে সহায্য করবে।
কোন রকম বিচার বিবেচনা না করে বর্তমান মুহুর্তটিতে সজাগ থাকাই হলো মাইন্ডফুলনেস।
বর্তমান সময়টিই আসল।কিন্তু অতীত আর ভবিষ্যতের নানাবিধ চিন্তার কারনে বর্তমান সময়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়না।মাইন্ডফুলনেস আপনাকে বর্তমান সময়ে মনোযোগী ও দক্ষতাসম্পন্ন হতে সাহায্য করবে।

মাইন্ডফুলনেস একধরনের মেডিটেশন।বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরনের মাধ্যমে মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন করানো হয়ে থাকে।প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করলে মনোযোগ বর্তমান মুহূর্তে ধরে রাখা সম্ভব।মাইন্ডফুল থাকা অবস্থায় আপনি দেখতে ও বুঝতে পারবেন বিভিন্ন চিন্তার জগৎ কিভাবে আপনাকে গ্রাস করে ফেলছে।যেহেতু মাইন্ডফুল অবস্থায় ক্লিয়ার মাইন্ডে থাকা হয় সেহেতু জীবনের বিভিন্ন প্রবলেমগুলোকে সহজভাবে দেখা যায়।

কেন আপনি মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস করবেন?

-মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস স্ট্রেস,এ্যাংজাইটি ও ডিপ্রেসন থেকে বের হয়ে আসতে অসাধারন ভূমিকা পালন করে।
-পর্যবেক্ষণ ও মনোসংযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
-আত্মনিয়ন্ত্রন ক্ষমতা বাড়ায়।
-মাইন্ডফুলনেস এক ধরনের মেডিটেশন যা প্রতিনিয়ত চর্চা করার ফলে আমার মতিষ্কের গঠনে পরিবর্তন আসে এবং শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
-শান্তিপূর্ণ ঘুমে এর ভুমিকা অনস্বীকার্য।
-বয়স্ক মানুষদের মধ্যে একাকীত্বতার হার কমায়।

আজকালকার দিনে যখন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে আমাদের মনোযোগ ও দক্ষতা সঠিকভাবে ব্যাবহার করা কঠিন হয়ে উঠছে তখন এই মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস আমাদের জন্য হতে পারে আশীর্বাদ।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন,মানসিক স্বাস্থ্য,মানসিক প্রশান্তি ইত্যাদির উপর হাতকলমে শিক্ষা দিয়ে থাকে।আর আপনার হাতে যদি সময় কম থাকে তবে ইউটিউবে মাইন্ডফুলনেস রিলেটেড ভিডিওগুলো দেখে নিতে পারেন।
মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস একবার শুরু করেই দেখুন না জীবন কতটা সুন্দর হয়ে উঠে;জীবনের স্বাদ,গন্ধ,প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করা আসলেই কতটা আনন্দদায়ক।


অন্তরা অন্তু

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share