HSC Exam :The বেসামাল চাপ!

Share

(১)

‘উফ্!!এবার আর এ+ পাব না। ‘

রাব্বির তাই মনে হচ্ছে। এপ্রিল থেকে তার পরীক্ষা শুরু হবে। ভালো কলেজের মেধাবী ছাত্র সে, প্রস্তুতিও খুব ভালো। সারাবছর রাতদিন এক করে পড়ালেখা করেছে। মা-বাবার প্রত্যাশা অনেক বেশি, একমাত্র ছেলে রাব্বি। সবার কথা মাথায় রেখে সে পরিশ্রম করেছে। অথচ পরীক্ষার সাত দিন আগে থেকে কিছুই পড়তে পারছে না। ভয় আর টেনশনের ফলে রাব্বি খুব হতাশ হয়ে পড়েছে। বই নিয়ে বসলেই মনে হয়,

– যদি Golden A + না আসে তবে কি হবে?

-যদি  MCQ কঠিন হয়?

 -ICT সহজ হবে তো? আর কত কী!

রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। ঘুমাতে গেলে দুঃস্বপ্ন দেখে। তাই সারারাত জেগে কাটাচ্ছে। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে পারছে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব চিন্তিত। বন্ধুরা বিরক্ত। সবারই তো পরীক্ষা। ‘রাব্বি কেন বেশি ভাব ধরছে?’-বন্ধুরা মিলে তাই ভাবছে। পরীক্ষা আসলে প্রতি বার এমন হয় তার।কিন্তু এবার বেশি টেনশনে আছে রাব্বি। সামনে যে ভর্তি পরীক্ষা!

খুব ভালো  করতে হবে। সবাই রাব্বিকে মানসিক ভাবে চাপ মুক্ত থাকার সুফল বোঝাচ্ছে। তবুও বেচারার টেনশন কমছে না।

(২)

ইমা পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত। টিউশনি করানো, বাসার কাজ সবই আগের মতোই করছে। পরীক্ষা আসলে প্রতি বার সে সব কাজ সময় মতো করার চেষ্টা করে। ইমা মনোযোগী ছাত্রী,  পড়ালেখা করে নিয়মিত। ফলে সবসময় খুবconfident থাকে। সব পরীক্ষা ভালো করবে, সে বিশ্বাস করে। সান্ধ্য আড্ডায় কম যাবে। আর টিভি দেখবে খুব কম পরীক্ষার সময়টায়। ফেসবুক চালানো বাদ দিবে। পড়ালেখা আর কাজে  ভারসাম্য আনবে। ইমা আরও বেশি নিয়মিত হবে পড়াশোনায়। পরীক্ষার চাপ তাকে  মনোযোগী করে তুলেছে।

আমরা প্রতিনিয়ত স্ট্রেস জিনিসটিকে নেগেটিভ ভাবেই দেখে থাকি। তবে আমাদের মধ্যে এই স্ট্রেস থাকাটাই স্বাভাবিক; কিন্ত খেয়াল রাখতে হবে সেই স্ট্রেসটা যেন পরিমিত পর্যায়ে থাকে। বেশি স্ট্রেসড হলে আমাদের নিত্যদিনের কাজ কর্মে ব্যাঘাত ঘটে। আবার অনেক সময় একদমই স্ট্রেস না থাকাটা আমাদের যেকোনো কাজে ডিমোটিভেট করতে যথেষ্ট। আমরা বলছি না প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে জোর করে স্ট্রেস আনতে হবে। অনেকেই আছেন যারা স্ট্রেসে থাকলে কাজ ভালো করেন। আবার অনেকে স্ট্রেসড না থাকলেই কাজে ভালো বোধ করেন। বিজ্ঞানীরা এই অপটিমাম স্ট্রেস লেভেল কে একটি গ্রাফের সাহায্যে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এখানে দেখানো হয় স্ট্রেস কিভাবে প্রোডাক্টিভিটি অর্থাৎ উৎপাদনের সাথে জড়িত। স্ট্রেস যত কম থাকে, “আরে ধুর, সমস্যা নাই, হয়ে যাবে, এত টেনশনের কিছু নাই” ইত্যাদি মনোভাব তৈরী হয়, অর্থাৎ মোটিভেশন কম থাকে, ফলে কাজ অথবা উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। আবার স্ট্রেস বেশি হলে “হায় হায় কী হবে” মনোভাব তৈরী হয়ে সমস্ত কাজটিকেই বিগড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা গ্রাফটির মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন এই পরিমিত স্ট্রেস অনেক সময় একধরণের ভালো মোটিভেটর হিসেবে কাজ করে এবং ব্যক্তিকে প্রোডাক্টিভিটির দিকে ধাবিত করায়। পরিমিত স্ট্রেস আমাদের মধ্যে ঠিক যতটুকু টেনশন সৃষ্টি করে ঠিক ততটুকুই কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য মোটিভেট করতে থাকে। তখন আমরা কাজটি শুরু করি। সুতরাং বলা যায়, আমাদের জীবনে স্ট্রেস সম্পূর্ণ নেগেটিভ কোনো ফ্যাক্টরও নয়।

(৩)

পরীক্ষা তো কি? প্যারা নাই মামা!!

তুহিন পরীক্ষা নিয়ে মোটেও চিন্তিত  নয়। পরীক্ষা যতই কাছে আসছে সে ততই অনলাইনে থাকে। তুহিনের চিন্তায় বাসার সবাই অস্থির। মা বলেন – পড়াশোনা না করলে ছেলেটা ফেল করবে,আমি মানুষকে মুখ দেখাব কি করে!?  তাতে কি! সবার টেনশন তুহিন কে পড়ায় বসাতে পারে না। সে নিয়মিত ছবি আপলোডে ব্যস্ত। কতটা like আর react  হলো ছবিতে সে তা নিয়ে ব্যস্ত।পড়তে বসলে মনে হয় দুবছর তো আর কম পড়িনি। ভালো রেজাল্ট করতে একদিন পড়লেই হবে। So no tension, do furti।

ICT, Finance এ টেনেটুনে পাশ করেও ফাইনালে ভালো করার স্বপ্ন দেখে তুহিন। মা বাবা, বন্ধুরা যতই মোটিভেট করুক না, তাতে কোনো লাভ হয়নি।

পরীক্ষার আগে পড়লেই ভালো করা যাবে, তাই তুহিন মানসিক ভাবে কোনো চাপ অনুভব করছে না।

###উপরের গল্প গুলো থেকে বলা যায়, রাব্বি পরীক্ষা নিয়ে অনেক বেশি  চিন্তিত। সে High Stress level এ আছে। এ অবস্থায় সে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছে না। বেশি ভালো করার চিন্তায়, স্বাভাবিক পড়ালেখাই চালিয়ে যেতে পারছে না।পরীক্ষার সময় অনেকের  এমন হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরীক্ষায়। যারা সব কিছুতে Stress নেয় বেশি, তাদের পক্ষে ভালো করে পড়ালেখা বা কাজ করা সম্ভব হয় না।

অপরদিকে, ইমা optimum stress level  এ আছে। এজন্য ইমার পক্ষে পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হয় না। মানসিক চাপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  পরিমিত মানসিক চাপ  মনোযোগ বাড়ায়। ফলে মানসিক চাপ যে কাজ করার ইচ্ছে আর ক্ষমতা বাড়ায় তা প্রমাণিত হয়ে যায়।

যদি কোনো চাপ না থাকে কাজ করার সময় তবে কোনো কাজই  ভালো করে করা সম্ভব হয় না। তুহিনের বর্তমান চাপ মুক্ত চিন্তা তাকে পড়ায় মনোযোগী করতে পারছে না। মোট কথা তুহিন যদি মানসিক ভাবে পরীক্ষার জন্য চাপ অনুভব করে, তাতে পড়াশোনায় মন বসবে। তুহিন Low Stress level এ আছে, তার পক্ষে ভালো করা সম্ভব হবে না

তাই সবশেষে বলা যায়, রাব্বি কে মানসিক চাপ কমাতে হবে ভালো করার জন্য।

ইমা যেটুকু চাপ বা টেনশনে আছে তা থাকাটাই ভালো।

আর তুহিনের জন্য চাপ নেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

চাপ কমাতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমে যেসব বিষয়ে আমরা স্ট্রেস অনুভব করি দেখতে হবে সেগুলি কোনোভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় কিনা। এর মধ্যে না বলতে শেখা অন্যতম। যেগুলি আমাদের চাপের মুখে ফেলে দিচ্ছে সেগুলিকে না করার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই চাপমুক্ত থাকতে পারি। এমনকি যেই মানুষ আমাদের স্ট্রেসে ফেলে দেয় তাদেরও আমরা এড়িয়ে চলতে পারি যেমন পাশের বাসার আন্টি। চাইলেই আমরা আমাদের অবস্থানকে পরিবর্তন করে স্ট্রেস কমাতে পারি। আমাদের স্ট্রেসের কারণ আমরা কারো সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে বা যারা আমাদের স্ট্রেসের পরিমান বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের জানানোর মাধ্যমে চাপমুক্ত থাকতে পারি। টাইম ম্যানেজমেন্ট করেও চাপমুক্ত থাকা যায় কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সময়মত কাজ না শুরু করার ফলে আমরা চাপে পড়ে যাই। যদি কোনভাবেই স্ট্রেস এড়ানো না যায় তাহলে স্ট্রেসের সাথে মানিয়ে নিতে পারি। স্ট্রেসের কারণ বা স্ট্রেসর কে নিজের সাথে ইতিবাচকভাবে মানিয়ে নিতে হবে। যেমন পরীক্ষার টেনসনে পড়া হচ্ছে না কিন্তু এটাও চিন্তা করা যায় যে এখন পড়তে না বসলে পরীক্ষা এমনিও খারাপ হবে তাই সময়মত পড়তে বসা যাতে পরীক্ষার ফল ভাল হয়। স্ট্রেস থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে গান শোনা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুর সাথে সময় কাটানো , আপনার যে কাজ করে আনন্দ পান সেগুলো করতে পারেন। অবশেষে যদি স্ট্রেস থেকে মুক্ত হবার কোন উপায় না পাওয়া যায় তাহলে কোন থেরাপিস্টের শরাপন্ন হতে পারেন।

সাধ্যের মধ্যে মন ভালো করার  পথ আছে। নিজেকে ভালোবাসুন, জীবন সুন্দর হয়ে যাবে রাতারাতি!!

লিখেছেন: তাহমিনা সুলতানা ইভা

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share