Emotional Literacy

Share

শুভ এইবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবা মার ইচ্ছা সে ডাক্তার হবে। কিন্তু শুভর চিন্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কেমিস্ট্রি। কেমিস্ট্রি সে অন্যান্য যেকোনো সাবজেক্টের চেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে পড়ে। শুভর ইচ্ছা সে ইউনিভার্সিটিতে কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়বে। কিন্তু শুভর এই সিদ্ধান্ত তার বাবা মা মানতে নারাজ। শুভর বাবার প্রথম প্রশ্নই ছিল ‘ কেমিস্ট্রি পড়ে তুমি কী করবে? আর মানুষ কী বলবে!’

শুভর এখন মনে হয় বাসার কেউ তার কথা বোঝার চেষ্টা করেনা। অনেকটা অভিমান করেই সে এখন কারও সাথে তেমন কথা বলেনা। সে এখন কী করবে নিজেও বুঝতে পারেনা।

শুভর মত ঘটনা হয়ত অনেকের সাথেই হয়। শুধুমাত্র ভর্তিযুদ্ধের সময়ই মানুষ এরকম পরিস্থিতিতে পরে এমন নয়। জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের মনে হয় আমাদের কথা কেউ বুঝতে চায়না। এমনকি অনেক সময় আমরা নিজেরা কী চাই তাও বুঝতে পারিনা। শুধুমাত্র এই বোঝাপড়ার অভাবেই আমাদের আশেপাশের মানুষের সাথে এমন কিছু বিবাদের সৃষ্টি হয় যা কিনা এড়ানো সম্ভব ছিল। এই সংক্রান্ত সাইকোলজির ভাষায় একটি টার্ম আছে- emotional literacy।

Emotional literacy কী

Emotional literacy বলতে বোঝায় নিজের চিন্তা ভাবনা, আবেগ সঠিকভাবে বোঝা এবং ইতিবাচকভাবে সেগুলো প্রকাশ করা। একইসাথে অন্যের কথা শোনা এবং তাদের চিন্তা ধারা বুঝতে চেষ্টা করা। সহজভাবে বললে, কোন মানুষের মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষমতাকেই বলা হয় emotional literacy।

Emotional literacy কেন দরকার

সমাজে একসাথে চলতে গেলে অনেকের সাথেই আমাদের মনোমালিন্য হয়। এইসব কনফ্লিক্ট এর পিছনে একটি সাধারণ কারণ যা  মোটামুটি আমরা সবাই বলে থাকি তা হল- ‘সে আমার অবস্থা বুঝার চেষ্টা করেনা।‘ এই ‘বুঝতে না পারা’ মূলত emotional literacy এর অভাব।  মানুষকে বোঝার চেষ্টা করলে আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে সহমর্মিতা জন্মে। Emotional literacy মানুষকে productive way তে আবেগ প্রকাশ করতে শেখায়।  মানুষ নিজের আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে। সবার সব কাজ আপনার ভালো লাগবে না অথবা সবার চিন্তা ধারা আপনার সাথে মিলবে না এইটাই স্বাভাবিক। আপাতদৃষ্টিতে কারও কোন কাজ আপনার ভালো নাই লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে সবার সাথে কনফ্লিক্টে জড়ানো নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আরেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাপারটা দেখলে হয়তো অনেক কনফ্লিক্ট এর সমাধান হয়ে যায়। মানুষ নিজেকে যখন ভালভাবে বুঝতে শিখে, নিজের ব্যাপারে তার ধারণা যত স্পষ্ট হয়, নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়া তার পক্ষে তখন সহজ হয়। Positive living এর জন্য emotional literacy  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে আশেপাশের মানুষকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য জরুরি। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি না বুঝে সবসময় নিজের মতামত দেয়াটা সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কিভাবে নিজের emotional literacy বাড়ানো যায়

ফ্রেঞ্চ সাইকোথেরাপিস্ট Claude Steiner তার ‘Emotional Literacy’ নামক বইতে emotional literacy কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন।

১. নিজের অনুভূতিগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা

২.সহমর্মিতা বা empathy চর্চা অর্থাৎ অন্যের জায়গায় নিজেকে রেখে চিন্তা করা।

৩.নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ

৪.Emotional problem (depression/anxiety ইত্যাদি) থাকলে তা চিহ্নিত করে দূর করা

৫. সার্বিকভাবে Emotional literacy এর প্রয়োগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া।

Emotional literacy শব্দটা আমাদের অনেকের কাছেই নতুন। আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অনেক বিবাদ কমে যাবে শুধুমাত্র এই মানুষকে বুঝতে চাওয়ার চর্চা করার মাধ্যমে।

(সামিরা মাহজাবিন)

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share