কনভার্সন ডিসঅর্ডার

Share

ঘটনাঃ জনাব শহিদুল আলম একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার পদমর্যাদার কারণেই তার উপর অনেক কাজের চাপ থাকে। গত কয়েক মাস যাবত প্রতিদিন তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে প্রচণ্ড ব্যাথা হত। দিনে দিনে ব্যাথার পরিমাণ এতোই বেড়ে গেলো যে তার জন্যে অফিসে বসে কাজ করাটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছিলো। এ সমস্যা নিয়ে তিনি একজন অর্থোপেডিকের শরনাপন্ন হলেন,অথচ ডাক্তারের পরীক্ষায় এবং মেডিকেল টেস্টে কোন সমস্যাই ধরা পড়লো না। আবার এদিকে তার পায়ের ব্যাথার অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছিলো।একদিন সকালে ঘুম ভেঙে প্রতিদিনের মত বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে শহিদুল সাহেব টের পেলেন তিনি হাঁটুর নিচ থেকে তার বাম পা নাড়াতে পারছেন না। তৎক্ষণাৎ তিনি ডাক্তারের কাছে গেলেন এবারও ডাক্তারের পরীক্ষায় কিংবা টেস্টে সবকিছু স্বাভাবিক আসলো। অথচ শত টেস্ট,ঔষধ দিয়েও শহিদুল সাহেব তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে কোন অনুভূতিই ফিরে পাননি।

উপরের বর্ণনা করা করা ঘটনাটির পেছনে মুখ্য কারণ হতে পারে কনভার্সন ডিসঅর্ডার। কনভার্সন ডিসঅর্ডার হলো ব্যক্তির এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে তার ঐচ্ছিক পেশী এবং শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গসমূহতে এমন কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা যায় যা প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার কোন রোগের উপসর্গের সাথে মিলে না। অর্থাৎ,ব্যক্তি শারীরিক বিভিন্ন অসুবিধায় ভুগে থাকে অথচ শারীরিক উপসর্গগুলো প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার কোন রোগের সাথে মিলে না । এটিকে ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল সিম্পটম ডিসঅর্ডারও বলা হয়ে থাকে। এ ডিসঅর্ডারটিকে ‘কনভার্সন’ ডিসঅর্ডার বলা হয় কারণ অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি তার মানসিক চাহিদা বা দ্বন্দ্বকে স্নায়বিক লক্ষণসমূহতে রূপান্তর করে থাকে। কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত আংশিক পক্ষাঘাত, অন্ধত্ব, বধিরতা- এ সকল সমস্যার বিষয়ে উল্লেখ করে থাকে। প্রকৃত শারীরিক সমস্যা থেকে এ ডিসঅর্ডারটিকে আলাদাভাবে নির্ণয় করা পারা চিকিৎসকদের জন্যেও অত্যন্ত কঠিন বিষয়। অনেক ক্ষেত্রেই আসল শারীরিক ব্যাধিই এবং কনভার্সন ডিসঅর্ডার আলাদাভাবে নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু আসল শারীরিক ব্যাধি এবং কনভার্সন ডিসঅর্ডারের উপসর্গের মাঝে অনেক মিল পাওয়া যায়, তাই চিকিৎসকেরা সাধারণ আসল ব্যাধির উপসর্গ এবং রোগীর বর্ণনা করা উপসর্গের মাঝে পার্থক্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন । এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তার শারীরিক উপসর্গগুলোর কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত শৈশবের শেষের দিক থেকে তারুন্যের শুরুর দিকে এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়।এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্তের মাঝে পুরুষদের চেয়ে মহিলারা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ভুক্তভোগী হয়ে থাকে।

 

 

কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার কারণসমূহ

কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার মূল কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। সাধারণত মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস, দুঃশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, মানসিক দ্বন্দ্ব, ইমোশনাল ট্রমা কিংবা বিষণ্ণতা- এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এ ডিসঅর্ডারের কারণে ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে দু;শ্চিন্তাজনক বা স্ট্রেস তৈরিকারী পরিস্থিতি থেকে সাময়িকভাবে পরিত্রাণ পায়।

দ্বিতীয়ত, এই উপসর্গগুলো ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকলে দীর্ঘ সময়ব্যাপী সে স্ট্রেস তৈরিকারী পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মস্তিষ্কের স্ট্রাকচারাল, সেলুলার কিংবা মেটাবলিক কার্যক্রমের পরিবর্তন বা বাধাপ্রাপ্ত হবার কারণেও শারীরিক উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে। এ ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে যে শারীরিক উপসর্গগুলো দেখা যায় তা মুলত আসন্ন কোন আশংকাজনক পরিস্থিতি বা স্ট্রেস থেকে সাময়িক পরিত্রাণ পাবার জন্যে শরীরের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া । উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, একজন পুলিশ অফিসার যে প্রতিনিয়ত দাগী এবং ফেরারী আসামীদের নিয়ে কাজ করে, যাকে তার কাজের প্রয়োজনে আসামীর উপর গুলি চালাতে হয়। অথচ দেখা গেলো যে গুলি চালানো কিংবা কাউকে হত্যা করার কাজটি তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে তাকে হয়তো প্রায়ই এ কাজটি করতে হয়ে থাকে। দেখা যেতে পারে যে, যে পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যে তার শরীরের স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া হিসেবে তার হাত অবশ কিংবা প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। তখন এটি কনভার্সন ডিসঅর্ডার হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনেকে অনেক ক্ষেত্রে মনে করেন যে, আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো তার শারীরিক সমস্যার ব্যাপারে মিথ্যা বলছেন বা বানিয়ে বলছেন। তখন তাদেরকে জোরপূর্বক এ সকল প্রতিক্রিয়া প্রকাশে বাধা দেয়া হয় অথবা তাদের কথায় গুরুত্ব দেয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী উপায় তো নয়ই বরং তা দূর্দশার সৃষ্টি করে থাকে। এর উপসর্গগুলো শারীরিক মুভমেন্ট এবং ইন্দ্রিয়গুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।

কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিসমূহ

  • যে সকল ব্যক্তি এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে থাকে, তারা হলেন-
    ডিসোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি (এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত থাকে না)
  • পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি ( যে ব্যক্তি কিছু সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত আচরণ এবং অনুভূতি প্রকাশে অক্ষম)
  • আগে থেকে মৃগীরোগ, কিংবা মুভমেন্ট জনিত সমস্যা থাকা
  • সাম্প্রতিক সময়ে কোন গুরুতর শারীরিক আঘাত বা মানসিক আঘাত পাওয়া
  • সম্ভবত, শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের ইতিহাস বা শৈশবে অবহেলার শিকার হওয়া
  • পরিবারে অন্য কেউ কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত থাকলে

কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার লক্ষণসমূহ
কনভার্সন ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলো ঠিক কোন ধরণের পরিস্থিতিতে কার্যকর হয়ে উঠবে তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। এটি জীবনের যে কোন সময় কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এ উপসর্গগুলো নিজে থেকে চালু বা বন্ধও করা যায় না। এ ডিসঅর্ডারের বিভিন্ন রকম লক্ষণ থাকে বা তা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উপস্থাপিত হতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গের প্রকটতার উপরও নির্ভর করে থাকে। এর উপসর্গগুলো শারীরিক মুভমেন্ট এবং ইন্দ্রিয়গুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। উপসর্গগুলো একবার কিংবা স্ট্রেস তৈরিকারী পরিস্থিতি বারবার উপস্থাপিত হলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে ।

কনভার্সন ডিসঅর্ডারের উপসর্গগুলোকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে, যথা-
• ইন্দ্রিয়জনিত লক্ষণ
• মোটর কার্যক্রম জনিত লক্ষণ
• খিঁচুনি

ইন্দ্রিয়জনিত লক্ষণ :
ইন্দ্রিয়জনিত লক্ষণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অন্ধত্ব বা টানেল ভিশন, সাময়িক বা সম্পূর্ণ বধিরতা, ত্বকে অনুভূতি লোপ পাওয়া বা হ্রাস পাওয়া, কথা বলতে সমস্যা হওয়া বা কথা বলতে না পারা।

মোটর কার্যক্রম জনিত লক্ষণ:
মোটর কার্যক্রম জনিত লক্ষণের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে দূর্বলতা অনুভব করা, পক্ষাঘাত বা শরীরের কোন অংশে অনুভূতি না পাওয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, কোন কিছু গিলতে অসুবিধা হওয়া বা গলায় কিছু আটকে আছে তা মনে হওয়া ইত্যাদি।

খিঁচুনি:
ব্যক্তির খিঁচুনির সাথে উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ শারীরিক প্রক্রিয়া দেখা যায় না। এক্ষেত্রে ব্যক্তির খিঁচুনির পাশাপাশি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে পড়ে।

উপরোক্ত তিনটি শ্রেণির সংমিশ্রণে কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে যা ব্যক্তির জন্যে কষ্টদায়কও হতে পারে।

কনভার্সন ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের উপায়সমূহ

কনভার্সন ডিসঅর্ডার মূলত Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders এর মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ণয় করা যায়। এ সকল উপায়সমূহ হলো-

  • শারীরিক মুভমেন্ট এবং ইন্দ্রিয়জনিত লক্ষণগুলো নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারা
  • নির্দিষ্ট স্ট্রেসজনিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেই শারীরিক প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দেয়া
  • শারীরিক লক্ষণগুলো চিকিৎসাগতভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা
  • শারীরিক লক্ষণসমূহ দৈনন্দিন জীবনকে বাধাগ্রস্ত করা
  • এছাড়াও ব্যক্তির কনভার্সন ডিসঅর্ডারের লক্ষণসমূহ নিশ্চিত করার জন্যে প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান,এক্স রে, ইলেক্ট্রোয়েনসেফালোগ্রাম, রক্তচাপ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?

উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলো যদি ব্যক্তির বর্ণনা করা লক্ষণের সাথে মিলে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এছাড়াও উক্ত লক্ষণগুলো আসলেই কোন শারীরিক বা স্নায়বিক গুরুতর সমস্যার কারণেও দেখা যেতে পারে বিধায় দেরি না করে তা নির্ণয় করে নেয়া উচিত। যদি নির্ণয় করার পর দেখা যায় যে, এটি একটি কার্যকরী নিউরোলজিক ব্যাধি, তবে তাৎক্ষণিক গৃহীত ব্যবস্থা ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলির অবস্থা উন্নত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

কনভার্সন ডিসঅর্ডারের কারণে সৃষ্ট জটিলতা

যদি উপযুক্ত সময়ে সঠিকভাবে কনভার্সন ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা না করা হয়, তবে সে সকল লক্ষণগুলো স্থায়ী হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

কনভার্সন ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা

সাধারণত বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে এ ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রধানত রোগের পেছনে দায়ী থাকা স্ট্রেসজনিত পরিস্থিতিটিকে খুঁজে বের করা হয়। এছাড়াও থেরাপিস্ট এ ডিসঅর্ডারের লক্ষণগুলোর প্রকটতা কমিয়ে আনার জন্যে রোগীকে উপযুক্ত ইতিবাচক প্রণোদনা দিয়ে থাকেন যার ফলে রোগী স্ট্রেসজনিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের উপসর্গের দ্বারা আক্রান্ত না হয়। এছাড়াও ব্যক্তিতে যে সকল থেরাপি দেয়া যেতে পারে, তা হলো-
• সাইকোথেরাপি
• ফিজিক্যাল থেরাপি (এটি স্ট্রেসজনিত পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট পেশীজনিত দৃঢ়তা বা খিঁচুনিকে শিথিলায়নে সহায়তা করে)
• গ্রুপ থেরাপি
• বায়োফিডব্যাক
• হিপোনসিস বা সম্মোহন থেরাপি
• রিল্যাক্সেশন থেরাপি এবং
• সাইকোট্রপিক মেডিকেশন বা ঔষধ সেবন (ডিসঅর্ডারের কারণে সৃষ্ট বিষণ্ণতা এবং উদ্বিগ্নতা দূর করতে সাহায্য করে)
উপরে উল্লেখিত উপায়গুলোর মাধ্যমে সহজেই কনভার্সন ডিসঅর্ডারকে নিরাময় বা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়ে থাকে।

কনভার্সন ডিসঅর্ডারের প্রতিরোধ

এটি সবসময় সব রোগের ক্ষেত্রেই সত্য যে, রোগ নিরাময় অপেক্ষা তা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সর্বাধিক কাম্য। কনভার্সন ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। কনভার্সন ডিসঅর্ডার প্রতিরোধের প্রাথমিক উপায় হলো স্ট্রেসজনিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবার উপায় খুঁজে বের করা এবং যথাসম্ভব উপায়ে মানসিক আঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা। এছাড়াও আর যে উপায়ে এ ডিসঅর্ডারটি প্রতিরোধ করা সম্ভব, তা হলো-
• যে কোন মানসিক ব্যধিতে আক্রান্ত হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা
• ভালো কাজ করা এবং জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা
• সকলের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করা এবং তা বজায় রাখার চেষ্টা করা
• একটি নিরাপদ ও শান্ত পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করা

উপরে উল্লেখ করা অনেক পরিস্থিতিই হয়তো আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব এসকল বিষয়গুলোকে কার্যকরীভাবে মোকাবেলা করা উচিত কারণ যারা এসকল ব বিষয়গুলোকে কার্যকরীভাবে মোকাবেলা করতে পারে তারা অনেকাংশেই তাদের চাইতে ভালো থাকে যারা বিরূপ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে অক্ষম। সর্বোপরি, চাপ এবং মানসিক আঘাত হ্রাস করা কনভার্সন ডিসঅর্ডার প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

অতএব, আমাদের জীবনে নানা ধরনের স্ট্রেস বা উদ্বেগজনিত পরিস্থিতি আসতেই পারে। এসকল পরিস্থিতি উপযুক্ত উপায়ে মোকাবেলা করা অথবা সময় থাকতেই কনভার্সন ডিসর্ডারের কোন লক্ষণ দেখা দিলে উপযুক্ত থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচত। আপনার সঠিক সময়ের একটি সঠিক পদক্ষেপ এ ডিসঅর্ডারে ফলে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং আপনার আগামীকে করে তুলতে পারে আরো সুন্দর, স্বাভাবিক ও আনন্দময়।

লিখেছে – অধরা।

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share