চঞ্চলতার ডিসঅর্ডার

Share


রাতুলের বয়স সাত। তার বাবা-মা তাকে নিয়ে খুবই চিন্তিত। কারণ এ নিয়ে ২ মাসের মাথায় ৫ম বারের মত রাতুলের শিক্ষক তার বাবাকে স্কুলে ডেকে তার নামে অভিযোগ দিয়েছে যে সে খুব চঞ্চল। রাতুল ক্লাসে অনেক কথা বলে। প্রায়ই শিক্ষকের দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাগজ নিয়ে খেলতে থাকে। শিক্ষক তাকে ধমক দিলে সে নিজেও তার জিদ প্রকাশ করে। ক্লাসে সে বড়ই অধৈর্য। ঠিকমত ক্লাসের কাজ করেনা। খাতাপত্র হারিয়ে ফেলে। এই শুনে রাতুলের বাবার মনে পড়লো আসলেই তো! রাতুল গত এক মাসে ১১ বার তার পেনসিল রাবার হারিয়ে ফেলেছে, বাংলা বই এই নিয়ে ৩বার কিনে দেয়া হয়েছে। শিক্ষক রাতুলের বাবাকে পরামর্শ দিলেন রাতুলকে নিয়ে কোনো একটি মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।

ADHD বা Attention Deficit hyperactivity disorder কে বাচ্চাদের মধ্যে অন্যতম একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি সাধারণত বাচ্চাদের মধ্যেই বেশি দেখা যায় তবে এর বিস্তৃতি বড়দের মধ্যেও পাওয়া যায়। ADHD তে আক্রান্ত বাচ্চারা সাধারণত কোনোকিছুতে মনোযোগ ধরে রাখতে বেশ ঝামেলার মধ্যে পড়ে। অনেকসময় দেখা যায় নিজদের ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় কিংবা অতিচঞ্চল স্বভাবের হয়ে থাকে।

লক্ষণঃ কিভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চা ADHD তে আক্রান্ত? বাচ্চাদের মধ্যে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা কিংবা চঞ্চলতা খুবই স্বাভাবিক একটি জিনিস। তবে এই ADHD তে আক্রান্ত বাচ্চাদের মধ্যে এই চঞ্চলতা কিংবা মনোযোগহীনতা খুব প্রকট ভাবে দেখা যায়। কিছু লক্ষণ হলো- মনোযোগ হারিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখা, যেকোনো বিষোয় নিয়ে প্রচণ্ডরকমের অধৈর্য হওয়া, যেকোনো কিছু ভুলে যাওয়া, স্কুলে কিংবা স্কুলের বাইরে বারবার জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা, জিদ দেখানো, অন্যদের সাথে সহজে মিশতে না পারা। ADHD বাচ্চার স্কুল এবং বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সমস্যার সৃষ্টি করে বিধায় বাচ্চাদের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাকে শুধুমাত্র “আরে ও একটু চঞ্চল, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে” ইত্যাদি বলে অবহেলা করা উচিত নয়।

বাচ্চাদের ভিতর সাধারণত তিন ধরণের ADHD দেখা যায়। ১) প্রিডমিনেন্টলি ইনএ্যাটেনটিভ প্রেজেন্টেশনঃ এখানে বাচ্চারা তাদের যেকোনো কাজ সম্পন্ন করতে অসুবিধা বোধ করে। মনোযোগ দিতে পারেনা অথবা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনা। খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, স্কুলের রুটিন কিংবা ক্লাসের কাজ ভুলে যায়।  ২) প্রিডমিনেন্টলি হাইপার এ্যাক্টিভ-ইম্পালসিভ প্রেজেন্টেশনঃ এখানে বাচ্চাকে অতিরিক্ত উসখুস করতে দেখা যায়। কোনো একজায়গায় সে স্থির হয়ে বসতে পারেনা; অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে। সারাক্ষণ দৌড়-ঝাঁপের মধ্যে থাকতে দেখা যায়। স্কুলে অন্যদের কাজে অনবরত বিঘ্ন ঘটানো, অন্যদের জিনিসপত্র কেড়ে নেয়া, নির্দেশনা মানতে না চাওয়া কিংবা অধৈর্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। এরকম অতিচঞ্চলতা বাচ্চার নিজের এবং তার আশেপাশের মানুষের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ৩) কম্বাইন্ড প্রেজেন্টেশনঃ প্রথম দুই ধরণের লক্ষণগুলো সমানভাবে বাচ্চার মধ্যে প্রকাশ পায়। সময়ের সাথে লক্ষণগুলোর মাঝে বেশ পরিবর্তন দেখা যায়।

ADHD কেন হয়? বিজ্ঞানীরা ডিসঅর্ডারটির মূল কারণ বের করতে না পারলেও মূলত জেনেটিক সমস্যাকে ADHD এর জন্য দায়ী করেছেন। ব্রেইনে ডোপামিন ট্রান্সমিশনের পরিমাণ কম হওয়া ছাড়াও আরো কিছু কারণকে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক ভাবে ADHD এর জন্য দায়ী করেন। যেমন- ব্রেইন ইঞ্জুরি, গর্ভাবস্থায় মায়ের এ্যালকোহল কিংবা অন্যান্য ড্রাগের সাথে জড়িত থাকা, প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি, জন্মের সময় বাচ্চার ওজন কম থাকা ইত্যাদি। বাচ্চার ADHD এর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত টিভি দেখা, প্যারেন্টিং স্টাইল কিংবা আশেপাশের পরিবেশের সম্পৃক্ততা থাকার কথা বিজ্ঞানীরা অস্বীকার করলেও এগুলো ADHD এর লক্ষণগুলোর প্রবলতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে বলে কিছু গবেষণাই পাওয়া যায়।

চিকিৎসাঃ সাধারণত ADHD এর চিকিৎসা হিসেবে মূলত বিহেভিয়ার থেরাপি এবং মেডিকেশনকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। ৪-৫ বছর বয়সীদের জন্য থেরাপী, এবং বাচ্চার বাবা-মার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকেই প্রাথমিক চিকিৎসা বলে মনে করা হয়। এছাড়া ডিসঅর্ডারটির প্রাবল্যতা অনুসারে পরবর্তীতে বাচ্চাকে মানসিক চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

ADHD তে আক্রান্ত বাচ্চারা সাধারণত হীনমন্যতায় ভুগে থাকে কারণ তারা কারো সাথে সঠিকভাবে মিশতে পারে যার কারণে তাদের বন্ধু সংখ্যা নাই বললেই চলে। এবং পরবর্তীতে তাদের ডিপ্রেশনে ভোগার সম্ভাবনার হার খুব বেশি। তাই তাদের সাথে তাদের পরিবার এবং আশেপাশের মানুষের সহযোগিতাই পারে তাদের জীবন অনেকখানি সহজ করে দিতে।সুস্থ থাকা প্রত্যেক বাচ্চার জন্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ। এবং যখন বাচ্চাটি ADHD ডিসঅর্ডার সম্পন্ন তখন তার জন্য এটির গুরুত্ব আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। থেরাপী কিংবা মেডিটেশনের পাশাপাশি একটি সুস্থ জীবনধারা বাচ্চাকে ADHD এর লক্ষণগুলোর সাথে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে।

নুজহাত জাহানারা

অ্যাকুয়াম্যান নাকি অ্যাকুয়াফোবিক?

Share

তাহমিদ পানি ভয় পায়। এতটাই ভয় পায় যে কোমর পানিতে নামতেও তার প্রচন্ড ভয়, “যদি ডুবে যাই”। পানির প্রতি এই ভয়ের ফলে সে নৌকা বা লঞ্চেও চড়তে চায় না। নদী দেখলেই তার মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করে। সে প্রচন্ড রকমের মানসিক চাপ অনুভব করতে শুরু করে। মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে।

আমাদের আজকের চরিত্র তাহমিদের রয়েছে অ্যাকুয়াফোবিয়া বা পানিভীতি। পানির প্রতি ভয় আমাদের অনেকেরই রয়েছে। সাগর বা খরস্রোতা নদী দেখে ভয় পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। লিন্ডাল এবং স্টিফ্যানসনের মতে বিশ্বের ১.৮% মানুষের অ্যাকুয়াফোবিয়া রয়েছে। যাদের এই অ্যাকুয়াফোবিয়া রয়েছে তারা আসলে কি ভয় পায়? সাধারণত তারা এই ভয় পায় যে তারা ডুবে মারা যাবে কিংবা পানির স্রোতে তারা ভেসে যাবে। অনেকে ভাবে সে এমন ভয়ানক কোনো কিছুর অভিজ্ঞতা হবে যা কিনা শুধুমাত্র কল্পনাই করা যায়; হয়ত পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান কিংবা অ্যাকুয়াম্যান মুভির বিশাল অক্টোপাস “ক্র্যাকেনের” মত কোনো কিছু এসে তাকে গ্রাস করে নিয়ে যাবে। এই পানিভীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের জানতে হবে এর কারণ, লক্ষণ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে।

পানিভীতির কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানীরা মূলত ব্যক্তির পূর্ব অভিজ্ঞতাকেই দায়ী করে থাকেন। হয়ত কেউ পুকুর বা নদীতে গোসল করতে যেয়ে প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন কিংবা বন্ধুরা মিলে মজা করে পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে অথবা চোখের সামনে কাউকে ডুবে যেতে দেখাও পানিভীতির সৃষ্টি করে। ছোটবেলার পানি সম্পর্কিত কোনো ঘটনার আকস্মিকতা কিংবা বিপজ্জনক ঘটনার অভিজ্ঞতাই পানিভীতি তৈরী করতে পারে। আমেরিকার একটা ঘটনার কথা জানা যায়, যেখানে একটি বাচ্চা মেয়ে তার পরিবারের সাথে পিকনিকে যেয়ে একটা ঝরণার সামনে কিছু লতাপাতার ঝোপে পা আটকে যায়। সে ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। তার বাবা মা তাকে সেখান থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও আস্তে আস্তে মেয়েটির মধ্যে অ্যাকুয়াফোবিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। পরে তাকে সাইকোলজিস্টের কাছে নেয়া হলে তার এই অ্যাকুয়াফোবিয়ার কারণ হিসেবে জানা যায় যে ছোটবেলায় সেই ঝোপে আটকে যাবার পর সামনে থাকা ঝরণার প্রবল স্রোত এবং পানির শব্দে সে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলো যে হয়ত সেই স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে এখনো পানি পড়ার আওয়াজ শুনলে কিংবা গভীর পানি দেখে সে ভয় পাচ্ছে।

ব্যক্তির অ্যাকুয়াফোবিয়ার লেভেল বা প্রাবল্য বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। সাধারণত মানুষ তাদের নিজের উচ্চতার বেশি পানিকেই ভয় পায়। যে ব্যক্তি হাঁটুপানিতে বন্ধুদের সাথে মজা করছে, সেই হয়ত গলা সমান পানিতে নামলে অ্যাকুয়াফোবিক হয়ে পড়ছে। আবার কারো হয়ত পানির স্পর্শ কিংবা পানির গভীরতার কথা চিন্তা করতেই ঘাম ছোটা শুরু হয়েছে। বিভিন্নভাবে ব্যাক্তির ভেতর অ্যাকুয়াফোবিয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। গভীর পানি দেখলে অত্যন্ত অস্বস্তিবোধ করা, বুক ধড়ফড় করা। পানির উপস্থিতি টের পেলে শ্বাস প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটা এমনকি ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন। পানির গভীরতার কথা চিন্তা করে শরীরে কাঁপুনি, ঘাম হওয়া থেকে শুরু করে প্যানিক এ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।

অ্যাকুয়াফোবিয়ার প্রতিকার অন্যান্য ফোবিয়ার মতই। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় তিনটি উপায়ে এই ফোবিয়া থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়।

১) মডেলিং : এখানে থেরাপিস্ট নিজে পানিতে নামেন এবং অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তি সেটি দেখেন। কয়েক সেশনের পর অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তি নিজেও পানির ব্যাপারে সাহস পেতে শুরু করেন।

২) ফ্লাডিং: মনোবিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন একজন অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তি তখনই পানিভীতি দূর করতে পারবেন যখন ব্যক্তি বারবার পানিতে নিজেকে প্রকাশ করবেন এবং বুঝতে পারবেন পানি আসলে তেমন বিপদজনক কিছু নয়। অর্থাৎ পানিভীতি দূর করতে বারবার পানির কাছে যাওয়াই হচ্ছে অ্যাকুয়াফোবিয়ার অন্যতম প্রতিকার।

৩) সিস্টেমেটিক ডিসেন্সিটাইজেশনঃ এই প্রক্রিয়াটি এক ধরণের চক্র মেনে চলে। এখানে প্রথমে থেরাপিস্ট অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তিকে রিল্যাক্সেশন ট্রেনিং করান। এরপর তিনি তার সামনে কিছু ঘটনা বর্ণনা করেন এবং ব্যক্তিকে সেটি কল্পনা করতে বলেন। হয়ত প্রথমে তিনি ব্যক্তিকে সুইমিংপুলের পাশে হেঁটে যাওয়ার একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপরের ধাপে ব্যক্তি হয়ত হাত দিয়ে পানিকে স্পর্শ করছে। তার পরের ধাপে ব্যক্তি পানিতে পা ডুবিয়ে বসেছেন। এভাবে  থেরাপিস্ট তার বর্ণনার মধ্যে ঘটনার ইন্টেন্সিটি বাড়াতে থাকেন এবং ব্যক্তির রিএ্যাকশন বুঝে তাকে রিল্যাক্সেশন ট্রেনিং দিতে থাকেন। এটি সাধারণত অত্যন্ত ভয়াবহ রকমের অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একজন মানুষের অ্যাকুয়াফোবিক হওয়াটা যেমন স্বাভাবিক তেমন বিপজ্জনক। অ্যাকুয়াফোবিক ব্যক্তি তার এই পানিভীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে থেরাপিস্ট, কাউন্সিলর কিংবা প্রফেশনাল সুইমিং ট্রেইনারের সাহায্য নিতে পারেন।

আশিক মাহমুদ

ভাল থাকুন, ভাল রাখুন

Share

কাজল ব্যাংকে চাকরি করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস করে বাসায় গিয়ে হাসিমুখে বাসার কাজ যেমন রান্না করা, ছোট বোনকে পড়ানো, অসুস্থ মায়ের দেখভাল, সব কিছু খুব আনন্দের সাথে করতে থাকে কোন ক্লান্তি ছাড়াই। তার আশেপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখা এমনকি নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজ, ছবি আঁকারও সময় বের করেন তিনি। তার মতে তিনি বেশ সুখী জীবনযাপন করছেন। একদিন কাজলের সহকর্মী তার কাছে জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ করছিল। “এত কাজ করতে ভাল লাগে! অফিসের ডেডলাইন মাথায় রাখো, বাসার কাজ, বিল দাও! কাজ করতে করতে একদিন মরেই যাব! জীবনে শান্তি বলতে কিচ্ছু নেই আর।” এমনটি ছিল তার অভিযোগ। কাজল সবকিছু শুনে তাকে জীবনে ভাল থাকার কিছু উপায় বললেন যেটা কাজল মনে করেন জীবনে ব্যালেন্সড ভাবে বাঁচতে সাহায্য করে।

কাজল যে উপায়ে তার জীবনযাপন করছেন তাকে পারমা(PERMA) মডেল বলা হয়। নামটি এসেছে ৫টি ক্ষেত্রবিশেষ মিলিয়ে:Positive emotions, Engagement, Relationships, Meaning of life এবং Achievement থেকে।  পারমা মডেল অনুযায়ী, ৫টি ক্ষেত্রবিশেষ মেনে চললে জীবনে সুখী থাকা সম্ভব। প্রথমত, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। জীবনে যা কিছু ঘটেছে বা ঘটছে তাকে খারাপভাবে বা নেতিবাচক ভাবে না নি স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া। যত দ্রুত একটি বিষয় স্বাভাবিকভাবে নেয়া যাবে, জীবন তত বেশি সহজ হবে। কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে ভাল আউটকাম কি হয়েছে তা যদি খুঁজে বের করা যায় তাহলে বুঝা যাবে একজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যাক্তি।

জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ভাল লাগার কাজটির সাথে লেগে থাকুন যেটাকে এ্যাংগেজমেন্ট বলা হয়। লিখতে, বই পড়তে বা ছবি আঁকতে পছন্দ করেন? সময় করে আপনার নিজের জন্য লেখা, বই পড়া বা ছবি এঁকে ফেলুন। এতে নিজের মনের রেফ্রেশমেন্ট হবে যার ফলে আপনার দৈনন্দিন কাজে কোন ক্নান্তি আসবে না।

আমরা সামাজিক জীব হওয়ায় মানুষের সান্নিধ্য আমাদের প্রয়োজন। তাই আমাদের পরিবার, আশেপাশের মানুষ এবং বন্ধুদের সাথে কোয়ালিটি সম্পর্ক ও সময় কাটানোর মাধ্যমে একজন মানসিকভাবে স্ট্রেস ফ্রী থাকতে পারেন। কারণ ভাল সম্পর্কের ফলে একধরনের মানসিক সার্পোট পাওয়া যায় যেটা আমাদের জীবন অনেকক্ষাণিক সহজ করে দেয়।

এখন একটি বাস্তব উদাহরণের দিকে তাকানো যাক। সেলিব্রিটিদের আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং এত খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে দেখা যায় তারা নিজ জীবনে অসুখী কিংবা অনেকে তো আত্মহত্যা করে বসেন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাই শুধুমাত্র একজন মানুষকে সুখী করতে পারে না। তা ছাড়াও আমাদের জীবনের একটি অর্থ বা লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য ছাড়া আমাদের জীবনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়। লক্ষ্য বা অর্থ যে খুব বড় হতে হবে তা না, খুব ছোটও হতে পারে যেটা নিজেকে আনন্দ দিবে। কোন অর্থ বা লক্ষ্য না থাকলে জীবনের সাথে জড়বস্তুর কোন পার্থক্য থাকে না।

জীবনে যা অর্জন, ছোট বা বড়, সেগুলোকে মূল্যায়ন করতে শিখি। মূল্যায়ন করলে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামনে আরো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। মূল্যায়ন একটি পজিতিভ প্র্যাক্টিস যেটার কারণে নিজের ভাল দিকগুলোর দিকে ফোকাস করা যায় যেটি সামনে আরো কিছু অর্জনের চাবিকাঠি।

বিজ্ঞানীরা নানা উপায়ে জীবনে ভাল থাকার উপায় বলে গেছেন। তারপরেও জীবনে সুখী থাকার উপায় মানুষভেদে ভিন্ন হয়। তবে আমরা শুধুমাত্র একটি ব্যাসিক উপায় হিসেবে এই পারমা মডেল মেনে চলতে পারি। জীবনে ভাল থাকা কিংবা সুখী থাকাটা একটি বড় অর্জন। নিজে ভাল  থাকলেই আমরা আমাদের চারপাশের মানুষদের ভাল রাখতে পারবো।

আ্যাপ্রিশিয়েট করুন

Share

“তুমি তোমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছো ইমন। এ প্লাস না আসলেও তোমার রেজাল্ট যথেষ্ঠ ভালো। এটা নিয়ে ভেঙে পড়োনা। এখন থেকে আরো ভালো করে চেষ্টা করো যাতে সামনে এটির চাইতেও ভালো ফলাফল আসে।“ এভাবেই ইমনকে বোঝাচ্ছিলেন তার বাবা। এইতো কয়েকদিন আগে ইমনের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। এ-প্লাসটা শুধুমাত্র ফিজিক্সের জন্য মিস হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে তার হতাশার শেষ নেই। ফলাফল প্রকাশের পর দুইদিন তো ঘর থেকেই বের হয়নি সে। ইমনের বাবা মা তাকে অবশ্য ওর তারিফই করছেন। কারণ তারা দেখেছেন ছেলেটা বেশ চেষ্টা করেছে পরীক্ষার সময়টিতে।

যখন আমরা কারো কোনো কাজের জন্য তার প্রশংসা করি, আমরা সেই ব্যক্তির মনোবল কিংবা আত্মবিশ্বাসটিকে বাড়িয়ে তুলি। অ্যাপ্রিশিয়েশন কিংবা মূল্যবোধ শব্দটি বাইরে থেকে ছোট দেখালেও এর প্রভাব অনেক বড়। কখনো কখনো এটির সঠিক ব্যবহারের ফলে আমরা ব্যক্তিকে তার পরবর্তী কাজগুলোতে আরো বেশি কিছু অর্জন করার প্রেরণা দান করতে পারি। অনেকেই আছেন যারা জানেন এই অ্যাপ্রিশিয়েশনের গভীরতা এবং এর সঠিক প্রয়োগ কিভাবে অন্যকে  মোটিভেট করতে পারে। পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র; সবজায়গাতেই “অ্যাপ্রিশিয়েশন” একটি নেতিবাচক পরিবেশকে ইতিবাচক রূপে পরিবর্তিত করতে পারে। একটু হাসিমুখে ধন্যবাদ জানানো কিংবা সহকর্মীর কোনো সাহায্যের বিপরীতে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাই পারে আমাদের আশেপাশের পরিবেশের উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে। যখন আমাদের ভাই-বোন কিংবা বন্ধু পরীক্ষায় আশানুরুপ ফলাফল অর্জন করতে না পারে কিংবা আমাদের কোনো সহকর্মী কোনো একটি কাজে ব্যর্থ হন তখন তাদের সমালোচনা না করে অ্যাপ্রিশিয়েট করা উচিত। কারণ এই ছোট একটু অ্যাপ্রিশিয়েশন তাদের মধ্যে আরো ভালো করার প্রেরণা জোগাবে। আমরা যদি তাদের অর্জনকে ছোট করে দেখি কিংবা তাদের কাজের প্রতি অতি সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করি তবে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে নিজেকে মূল্যহীন কিংবা ইউজলেস মনে করতে পারে। এতে বরঞ্চ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। ব্যক্তি আরো ভালো কিছু করার উদ্যম হারিয়ে ফেলতে পারে। প্রত্যেকেই চায় অন্যরা তার কাজের প্রশংসা করুক। ব্যক্তির কাজের বিপরীতে তাকে শুধু ধন্যবাদ না বলে “আপনি কাজটি ভালো করেছেন” কিংবা “চালিয়ে যাও” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করলে সে পরবর্তীতে যেকোনো কাজে আরো ভালো কিছু অর্জন করার চেষ্টা চালায়। হয়ত অফিসের কোনো কাজে বসের বকা খেয়ে কাঁচুমাচু হয়ে থাকা কলিগকে তার চেষ্টার প্রশংসা করলেন, কিংবা পরীক্ষায় খারাপ করে আত্মীয় স্বজনের খোঁচায় জর্জরিত ছেলেকে একটু সাহস দিলেন; হাজারও সমালোচনার মাঝে আপনার একটুখানি অ্যাপ্রিশিয়েশনই হয়ত তাদের দিনটিকে ভালো করে দিতে পারে।

অ্যাপ্রিশিয়েশন শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রে নয় বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী। পরিবার বন্ধু সবার প্রতি এই মূল্যবোধ অনুশীলন একটি ভালো গুণ। আপনার কোনো বন্ধু পরীক্ষায় মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করেছে? তাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন। সে পরবর্তীতে আরো ভালো কিছু করবার চেষ্টা করবে। আপনার প্রতিবেশী আপনার কোনো উপকার করেছেন? তার এই কাজকে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন। আপনার স্বামী কিংবা স্ত্রী আপনার জন্য সুন্দর কোনো উপহার এনেছেন? তাকে হাসিমুখে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন। সময়মত অ্যাপ্রিশিয়েট করা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রাখে। কারো প্রচেষ্টার প্রশংসা করার মাধ্যমে আপনি নিজের একটি ইতিবাচক দিক প্রকাশের সুযোগ পাবেন। এটি প্রমাণ করবে যে আপনি অন্যদের ছোট ছোট কাজেরও মূল্য দিতে জানেন। সেজন্য যখনই সম্ভব আপনার পাশের মানুষটির প্রতি অ্যাপ্রিশিয়েশন দেখানো জরুরী। এতে মানুষের সাথে আপনার সম্পর্কের উন্নতি হবে। অন্যরা আপনাকে গুরুত্ব দিবে ঠিক যেমনটা আপনি তাদের দিচ্ছেন। এটি অল্প হলেও আপনার জীবনের কিছু কাজকে সহজ করে তুলবে।

কৃতজ্ঞতা, মূল্যবোধ কিংবা অ্যাপ্রিশিয়েশন যাই বলা হোক না কেনো; এটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় তবে এর সুফল অবশ্যম্ভাবী। গঠনমূলক সমালোচনা উপকারী, তবে চেষ্টা করুন অন্যের কাজের অতি সমালোচনার বদলে প্রশংসা করে তাকে আরো ভালো কিছু করার উৎসাহ দেয়ার। চারপাশের পরিবর্তনগুলো আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।

আশিক মাহমুদ

একাকীত্বের সাথে বসবাস

Share

ঐশী ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। ক্লাসে তার অনেক বন্ধু। কিন্তু বাসায় আসলেই ঐশীর মনে হয় যে সে খুবই একা একজন মানুষ। ঐশীর বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। সে তখন প্রায়ই রুমের দরজা বন্ধ করে মাথা নিচু করে বসে থাকে। এই অবস্থায় সে পড়ায় মন দিতে পারেনা। তার রেজাল্ট আগের তুলনায় এখন বেশ খারাপ হচ্ছে। এজন্য তাকে তার বাবা মা অনেক কড়া কথা শুনিয়েছেন। ঐশী বুঝতে পারেনা তার অবস্থার জন্য আসলে দায়ী কে? তার মনে অনেক প্রশ্ন, অনেক কথা। কিন্তু তার মনে হয় তার কথা শোনার মত কেউ নেই। কলেজের সময়টুকু বন্ধুদের সাথে সে হাসি ঠাট্টা করলেও তার মনের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে বন্ধুদের সাথে অনেক কথা শেয়ার করতে চাইলেও কিছু শেয়ার করেনা এই ভেবে যে তারা ঐশীকে নিয়ে পরে কী ভাববে! এইভাবেই একাকী ঐশী নিজের মনের অবস্থার সাথে যুদ্ধ করতে থাকে।

প্রতিযোগিতার যুগে আমরা অনেক সময়ই আমাদের সবচেয়ে আপনজনকে সময় দিতে পারিনা। যার ফলে তারা দিন দিন একা হয়ে পরে। আমরা সবাই সুখী জীবন যাপন করতে চাই।আর তার জন্য দরকার মানসিক প্রশান্তি। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের সমাজে এখনও অনেক অবহেলিত। মানসিক সমস্যাগুলো ট্যাবুর মত। একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক প্রকার অন্তরায়ই বলা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রতিদিন কত মানুষের সাথে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু তবুও মাঝেমাঝে মনের কথাগুলো বলার জন্য কাউকেই পাশে পাওয়া যায় না। এই নিঃসঙ্গতা থেকে মন খারাপের সৃষ্টি হয়। বন্ধুমহলে ‘ভাল্লাগেনা রোগী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মানুষগুলোর কাছে তার বন্ধুরা কি কখনও জানতে চায় তার ভালো না লাগার কারণ কী? জিজ্ঞেস করলে হয়তোবা উঠে আসত কোনো ঘটনা যা তাকে এখনো পীড়া দিচ্ছে। বন্ধুদের এই ঠাট্টার কারণে হয়ত এখন সে নিজেকে আরও একা অনুভব করে ।

একাকীত্বের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে আশেপাশের মানুষের ‘জাজমেন্টাল’ মনোভাব। পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর- কথাটি মেনে চলার মানসিকতা আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মানুষের নেই। কেউ আমাদের কাছে তার অপরাধবোধজনিত কোন কষ্ট শেয়ার করতে আসলে আমরা অনেকেই বাঁকা কথার দ্বারা তার অপরাধবোধকে আরো তীব্র করে তুলি। ফলে অপরাধবোধের সাথে যুক্ত হয় সংকোচ এবং সেই মানুষেরা নিজেদেরকে খুবই একা অনুভব করে। এমনকি অতীতের কোন ট্রমার কথা বলতেও মানুষ সংকোচ বোধ করে আর নিজেকে গুটিয়ে নেয়। সম্পর্কবিচ্ছেদ, দাম্পত্য কলহ, আপনজনের মৃত্যু, বিরূপ পারিবারিক পরিবেশ ইত্যাদি মানুষের একাকীত্বের কারণ হতে পারে।  এই একাকীত্বের কারণে পরবর্তীতে অনেকে মানসিক জটিলতায় ভোগে। যেসব শিশু সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ না পেয়ে একা বেড়ে উঠে পরবর্তীতে তারা সহজে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনা। একাকীত্ব শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ ব্যাহত করে।

একাকীত্ব কোন রোগ নয় কিন্তু অনেক মানসিক রোগের লক্ষণ। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশিরভাগই নিজেকে খুব একা অনুভব করে। মানুষের আত্মহত্যা চিন্তার পেছনেও একাকীত্বের ভূমিকা রয়েছে। একাকীত্ব মানুষের শারীরিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। নিজেকে বাইরের জগত থেকে গুটিয়ে নেয়া মানুষের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

একাকীত্ব দূর করার জন্য সর্বপ্রথম নিজেকে নিজের সময় দেয়া উচিত। দিনের কিছুটা সময় নিজেকে নিয়ে ভাবলে নিজের পজিটিভ এবং নেগেটিভ সাইটগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং কোন কারণগুলো জন্য নিজেকে একা মনে হয় সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। মাইন্ডফুলনেস চর্চা বা মেডিটেশন এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হতে হবে। আর এই ব্যাপারে কিছুটা সময় নিয়ে সঠিক বন্ধু বা সঙ্গী নির্বাচন করতে হবে। নিজের মনের কথাগুলো বিশ্বস্ত কাউকে বললে মানুষের একাকীত্ব অনেকাংশে কমে যায়। অন্যের ফ্যামিলি বা ফ্রেন্ড সার্কেল অথবা জীবনযাপনের সাথে নিজের তুলনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক সমস্যাগুলো প্রয়োজনে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। প্রতিদিন জীবনকে নতুন করে দেখার মানসিকতা আমাদের মানসিক উৎকর্ষের পক্ষে সহায়ক।

(সামিরা মাহজাবিন)

বুলিং এবং এর পেছনের গল্প

Share

তুহিন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। একদম প্রথম থেকে নিয়মিত ছাত্র হলেও ইদানীং সে ক্লাসে যেতে চায়না। বাবামা কিছু জিজ্ঞেস করেও সেটির কারণ বের করতে পারেনি। অবশেষে একদিন তুহিন তার কাজিনের কাছে এই স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টির কারণটি খুলে বলে। তুহিনের ক্লাসমেট সুমন তার বন্ধুদের নিয়ে তুহিনকে প্রতিদিনই উঠতে বসতে জ্বালাতন করে। কোনোদিন খাতা কিংবা জামায় পানি ঢেলে দিচ্ছে কিংবা টিফিনের খাবার কেড়ে নিচ্ছে। তুহিনের চশমা কিংবা ব্যাগ নিয়ে ছোঁড়াছুঁড়ি তো নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। অনেক সময় তো শারীরিকভাবে আঘাতও করে বসে। তুহিন প্রতিবাদ করতে গেলে এই অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

“আজ ফেরার পথে ধাক্কা দিয়ে তুহিনকে কাদায় ফেলে কী মজাটাই না নিয়েছি বন্ধুদের সাথে। আরে বন্ধুদের সাথে যদি একটু মজাই করতে না পারলাম তো স্কুলে যেয়ে লাভটা কী? আর আমি তো শুধু মজাই করছি। তুহিন তো এগুলা বুঝতেই চায়না। আরেকটু হলেই কেঁদে দিচ্ছিলো গাধাটা।“ এইসব ভাবতে ভাবতে বাসায় ফিরে আসে সুমন। বাসায় ঢুকেই শোনে তার বাবা-মা ঝগড়া করছে। ধুর, প্রতিদিন আর এই চেঁচামেচি সহ্য হয়না। একরাশ বিরক্তি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সুমন। এলাকার বন্ধুদের আড্ডাখানায় যেয়ে বসে সে। সেখানেও ছোটখাটো একটা বিষয়ে মতের অমিল হওয়ায় বন্ধুদের সাথে ঝগড়া লেগে যায় তার।

বন্ধুদের সাথে মজা তো আমরা সবাই করি। কিন্তু সেই মজাটি যখন বন্ধুর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে যাচ্ছে কিংবা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি যখন বন্ধুর আপত্তি সত্ত্বেও বারবার ঘটতে থাকে তখন সেটিকে বুলিং বলা হয়। প্রধানত দুই ধরণের বুলিং দেখা যায় স্কুলগামী বাচ্চাদের মধ্যে। শারিরীক ভাবে আঘাত কিংবা দলবদ্ধভাবে একজনের উপর চড়াও হওয়ার মাধ্যমেই বুলিং এর প্রকাশ ঘটে। আঘাত করা কিংবা বিভিন্নভাবে ক্ষতির মাধ্যমেই “ফিজিক্যাল বুলিং” এর ঘটনা দেখা যায়। গ্রুপের মধ্যে কাউকে একঘরে করে রাখা, সবসময় তাকে নিয়েই সমস্ত জোকস, তাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো কিংবা তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদমূলক কথাবার্তা কিংবা গালিগালাজ; এইসব দ্বারা “রিলেশনাল বুলিং” বোঝানো হয়। এছাড়া স্কুল কলেজ ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল বুলিং; কিংবা ইন্টারনেটে সাইবার বুলিং বেশ বড় ধরনের সমস্যা। এইসব অপ্রীতিকর ঘটনা পরবর্তীতে ভিক্টিমের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিশ্বের প্রায় ২২% মানুষ যারা বুলিং এর শিকার হয়েছেন তারা বেশ লম্বা সময় ধরে এটির দ্বারা প্রভাবিত হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটি ৫০ বছর পর্যন্ত যেতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে শতকরা ৪০ জন এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে শতকরা ২৭ জন চাইল্ডহুড বুলিং এর ফলাফল হিসেবে পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডারের সম্মুখীন হয় (মিশা কেচেল, ২০১৮)।

একজন মানুষ যখন বুলিড হয় তখন সে শারীরিক বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বেশ কিছু লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়। সে বন্ধুবান্ধব থেকে আস্তে আস্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একাকী হয়ে পড়ে; ডিপ্রেশন তাকে ঠেলে দিতে পারে ড্রাগ এ্যাডিকশনের দিকে। বুলিং এর মানসিক ট্রমা,  ডিপ্রেশন কিংবা লো সেলফ এস্টিম এর কারণে সে সুইসাইডের দিকেও এগিয়ে যেতে পারে। যখন সে দেখে সে বুলিড হচ্ছে দেখেও কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না তখন তার ভিতরে ট্রাস্ট ইস্যু গড়ে উঠতে পারে। এ্যাগোরাফোবিয়া কিংবা প্যানিক ডিসঅর্ডারের মত সমস্যার পিছনেরও অন্যতম কারণ এই বুলিং (ডিউক ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা)। বুলিং এর শিকার হওয়া মানুষ পাবলিকলি কথা বলতে ভয় পায় কারণ স্কুলে হয়তো তাকে অপিনিয়ন জানানোর কোনো সুযোগ দেয় হয়নি কিংবা তার মতামত নিয়ে হাসাহাসি করা হয়েছে। বুলিং এর ইফেক্ট হিসেবে অনেক মানুষই দুঃস্বপ্ন দেখে থাকে।

একজন বুলিং ভিক্টিমকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সাধারণত কাউন্সেলিং কিংবা কথা বলাই সর্বোত্তম পদ্ধতি। একজন প্রফেশনালের সাথে কথা বলে কিংবা অন্যান্য মানুষ যারা কিনা বুলিং এর শিকার হয়েছেন এসব মানুষের সাথে কথা বলে নিজের ভয়কে কাটানো যায়। বুলিং ভিক্টিমরা অনেক সময় বুলিড হওয়ার জন্য নিজেকে দোষারোপ করে থাকেন। যার কারণ হচ্ছে লো সেলফ এস্টিম। নিজের মতামতের গুরুত্ব না পাওয়া, সোশ্যাল সার্কেলে যথাযথ মনোযোগ না পাওয়া লো সেলফ এস্টিমের অন্যতম কারণ। এখানে কথা বলার মাধ্যমে ভিক্টিম বুঝতে পারে তার মতামতেরও গুরত্ব রয়েছে। সে নিজেকে গুরুত্ব দেয়া শেখে। বুলিং এর ফলে যে ভিক্টিম পাবলিকলি কথা বলতে ভয় পায় সে আস্তে আস্তে তার ভয়কে কাটিয়ে উঠে।

একজন বুলি বুলিং কেন করে? আমরা প্রায়শই দেখে থাকি ক্লাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ছেলেটি হয়ত ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ছেলেকে বুলি করছে। এছাড়া অনেক সময় অবিসিটি (Obesity) কিংবা ইকোনমিক স্ট্যাটাসের কারণেও অনেকে বুলিং এর শিকার হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা বুলিং এর কারণ হিসেবে হাই সেলফ এস্টিম, আগ্রাসী মনোভাব, ক্রোধ, বেড়ে উঠার পরিবেশ ইত্যাদিকে দায়ী করেন। উপরে আমরা দেখতে পাই সুমন তার বাসায় বাবা-মায়ের ঝগড়ার ফলে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এখানে বাসার পরিবেশের প্রতি সুমনের প্রতিক্রিয়া কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে না পারার ক্ষোভ ইত্যাদি বিষয় স্কুলে সুমনের বুলি করার দিকে আঙুল তোলে। স্কুলে বুলিং-এর ফলে সে প্রভাব বিস্তার করতে পারছে এবং সেখানে সেই যেকোনো কিছুর কেন্দ্রবিন্দু এবং বুলিং করে সে নিজে আনন্দ পাচ্ছে এসব কারণই তাকে বারবার অন্যদের বুলি করতে উৎসাহিত করে।

আমাদের সমাজে মানুষ সাধারণত যে বুলিড হচ্ছে তার দিকেই বেশি নজর দেয়। কিন্তু আমরা চাইলেই যে বুলি করছে তার দিকেও একটু খেয়াল রেখে তার বুলিং এর কারণ বের করতে এবং বুলি করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারি। একজন বুলি সাধারণত রাগ, ক্ষোভ এবং অল্পবিস্তর ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে থাকেন। কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে তার চিন্তাধারা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাকে বুলিং এর ক্ষতিকর দিক সমূহ সম্পর্কে বোঝানো যেতে পারে। এছাড়া একজন বুলির মধ্যে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটির কিছু লক্ষণও দেখা যায়। এক্ষেত্রে তাকে অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া কিংবা অন্যের অসুবিধা বুঝতে পারা সম্পর্কে সাহায্য করা যেতে পারে। তার মধ্যে সিমপ্যাথি এমপ্যাথি ইত্যাদি গুণ গড়ে তুলতে সাহায্য করা যায়।

বুলিং সারাবিশ্বেই একটি সাধারণ ঘটনা হলেও ব্যাক্তির মানসিক সুস্থতার উপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। আমাদের পাশের মানুষটিই হয়তো তার সোশ্যাল সার্কেল থেকে বিচ্ছিন্ন এই বুলিং এর কারণে; কিংবা সে নিজেই হয়তো একজন বুলি। বুলিং এর ভিক্টিম অথবা বুলিং এর জন্য দায়ীকে বুলিং এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা আমাদেরই দায়িত্ব।

অনেকে আছেন নিজের কথা শেয়ার করার জন্য ‘right person’ কে পাচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে itsokay website একটি ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি পরিচয় গোপন রেখে আপনার কথা বলতে পারেন এবং আপনার মত আরো অনেক জনকে পেতে পারেন যার সাথে আপনি নির্দ্বিধায় মনের কথা খুলে বলতে পারেন।

মেজাজ যখন এটম বম্ব

Share

আহসান হাবিব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।সারাদিন বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে কাজ করতে হয় তাকে।

একদিন সকালে নাস্তা দিতে দেরী করায় রেগে গিয়ে সে তার স্ত্রী’কে খুব বকাঝকা করলেন এবং রাগ করে সকালের নাস্তা না খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন।অফিসে যাওয়ার পথে তার গাড়ির সাথে একটি রিক্সার ধাক্কা লাগলে তিনি রেগে গিয়ে রিকশাচালকে থাপ্পড় দিয়ে বসলেন।সেদিনই অফিসে সে তার কাছের একজন কলিগের সাথে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা শুরু করলেন।যেহেতু সারাদিন বিভিন্ন কারণে রেগে ছিলেন, বাসায় এসেও মন ভালো ছিল না তার। আহসান হাবিবের ৫ বছরের সন্তান যখন তার কাছে বিভিন্ন বায়না করছিলো তখন তিনি রেগে গিয়ে বাচ্চার উপর চিৎকার করা শুরু করলেন।

রাগ করা খুব স্বাভাবিক এবং এর প্রকাশ করাটাও খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কেউ খুব ছোট বিষয়ে হঠাৎ রেগে যান আবার কেউ খুব সহজে রাগ না করলেও রাগান্বিত অবস্থায় বেশ ভয়ংকর হয়ে উঠেন। আবার অনেকে আছেন তারা রাগ করলেও সেটিকে প্রকাশ করেন না, বরং ঠান্ডা মাথায় সেটিকে মোকাবেলা করেন। তবে রাগের  ধরণ যেমনই হোক না কেন রাগ আমাদের ক্ষতি ছাড়া ভাল কিছু করেনা।রাগের অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে। অতিরিক্ত রাগকে স্ট্রেসফুল ডিজিজের কারণ হিসেবে দেখা হয়। রাগান্বিত ব্যক্তি হঠাৎ করেই অধিক পরিমাণে উত্তেজিত হয়ে পড়েন যা কিনা ব্যক্তিকে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া অস্বাভাবিক রাগ ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। দীর্ঘ সময় ধরে যদি ব্যাক্তি রাগের মধ্যে দিয়ে যায় তবে সেই ব্যাক্তির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে।তাই ব্যাক্তির রাগ কন্ট্রোল করা শিখে নেওয়াটা খুবই জরুরী।

যেভাবে রাগকে কন্ট্রোল করা যেতে পারে-

০১।আপনার রাগের কারণগুলো জানুন।যেসব বিষয় আপনাকে রাগিয়ে দেয় সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।

০২।যখনই কোন বিষয় নিয়ে রাগ অনুভব করছেন তখন একটু ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন।

০৩।যেসব কাজ,আলোচনা বা তর্ক আপনাকে রাগিয়ে দেয়,সেসব এড়িয়ে চলুন;প্রয়োজনে একটু বিরতি নিন।

০৪।কারো আচরণ যদি আপনার রাগের কারণ হয়  তবে সেই ব্যাক্তিকে তা বুঝিয়ে বলুন।তার আচরণে কষ্ট পাচ্ছেন তা প্রকাশ করুন।

০৫।অফিসে কলিগের সাথে রেগে গেলে তাৎক্ষণিক ঐ স্থান ত্যাগ করুন।প্রয়োজনে একটু বাইরে থেকে হেঁটে আসতে পারেন।

০৬।প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ ঘুমান।

০৭।নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

০৮।প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন।

০৯।পজিটিভ হওয়ার চেষ্টা করুন।

১০।রাগগুলোকে মনে পুষে না রেখে রাগের কারণগুলোকে ব্যাখা করুন।দেখবেন রাগ অনেকটা কমে যাচ্ছে।

যখন আমরা রাগ করি তখন আমরা মূলত নিজেদেরকেই কষ্ট দেই এবং কাছের মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলি।রেগে না গিয়ে শান্তভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারাই মূলত এ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট টেকনিক।  রাগ করা ছাড়াও যে সমস্যার সমাধান করা যায় তা শিখে নেওয়া জরুরী।রাগ কন্ট্রোল করে সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করার জন্য প্রয়োজনে যে কেউ সাইকোলজিস্টের কাছ থেকে কাউন্সেলিং সেবাও নিতে পারেন।

অন্তরা অন্তু

Resilience: বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন

Share


শুভ খুব ভাল একজন ছাত্র। সে বড় হয়ে একজন রসায়নবিদ হতে চায়; কিন্তু তার পরিবার চায় সে ডাক্তার হোক। শুভর রসায়নবিদ হওয়ার ইচ্ছাটাকে পরিবার গুরুত্ব দেয়না। এইচ.এস.সি পরীক্ষার পর শুভ পরিবারের চাপের মুখে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরই মধ্যে এইচ.এস,সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিলে দেখা যায় ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও সে এ+ পায়নি। পরিবার থেকে তাকে নিয়মিত বকাঝকা ও অপমান করা শুরু হয়। মানসিকভাবে পরিবারের সাপোর্ট না পেয়ে সে খুব ভেঙে পড়ে। অবস্থা আরও খারাপ হলো যখন সে কোনো ভার্সিটিতে চান্স পেলোনা। বন্ধুবান্ধব যারা বিভিন্ন ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছিলো তারাও শুভকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে লাগলো। পরিবার, আত্নীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব সকলের অবহেলায় সে খুব আইসোলেটেড ফিল করতে লাগলো। স্বাভাবিক জীবন যাপন করা শুভর জন্য কঠিন হয়ে উঠলো। তার মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, আশাহীনতা, রাগ ইত্যাদি নেতিবাচক ইমোশনগুলো দিনকে দিন বেড়েই যেতে লাগলো। শুভর মনে হতে লাগলো বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।

শুভর বড় বোন তার মধ্যে এই একাকীত্ব, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা, হতাশাগুলো লক্ষ্য করেন এবং তিনি শুভকে একজন সাইকোলজিস্টের কাছে নিয়ে যান। নিয়মিত কাউন্সেলিং ও বড় বোনের অনুপ্রেরণা পেয়ে শুভ প্রতিকূল অবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের জন্য চেষ্টা শুরু করে।

ওপরে আমরা শুভর ক্ষেত্রে তার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পরিবর্তিত অবস্থাতে খাপ খাওয়ানোর যে চেষ্টা দেখতে পাই তাকে বলা হয় রেজিলিয়েন্স।

রেজিলিয়েন্স হলো সংকটপূর্ণ অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করার একটি প্রক্রিয়া।

যেসব ব্যাক্তিদের মধ্যে রেজিলিয়েন্স বা পরিবর্তিত অবস্থাতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে তারা সংকটপূর্ণ অবস্থাতে শান্ত থাকতে পারে যা তাদেরকে পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে সাহায্য করে। আর যাদের মধ্যে রেজিলিয়েন্স কম থাকে তাদের মধ্যে পরিবর্তিত অবস্থাতে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কম থাকে।

সম্পর্কের ভাঙন, কাছের কোনো মানুষের মৃত্যু, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পেশাদারী ব্যর্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, শারীরিক নির্যাতন ইত্যাদি যেকোনো কারণে ব্যক্তি দীর্ঘসময় ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকতে পারে; যেটা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবর্তিত অবস্থাটাকে স্বীকার করে নেওয়াটা একজন বিপর্যস্ত ব্যক্তির জন্য খুবই জরুরী।

পরিবারের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, সামাজিক নিরাপত্তা, অভিযোজন কৌশল, নিয়মিত কাউন্সিলিং সেবা ইত্যাদি ব্যক্তির মধ্যে রেজিলিয়েন্স বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের কাছের বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যই  হয়তো আছে যাদের রেজিলিয়েন্স কম থাকার কারণে জীবনে এগোতে পারছে না। আমারদের সকলের সহায়তাই পারে তাদেরকে সুস্থ সুন্দর জীবন দিতে।

অন্তরা অন্তু

মরে গেলেই হয়ত বেঁচে যাবো!

Share

মনে পড়ে কনফিউজড শুভর কথা? তার এইচ.এস.সি. পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে গতকাল। তার অনেক বন্ধুরা এ প্লাস পেলেও তার এ প্লাস আসেনি। এ নিয়ে বাবা মায়ের বকাঝকার শেষ নেই। সারাবছর খোঁজ না থাকলেও আজ অনেক আত্মীয় স্বজনই ফোন দিয়ে তার রেজাল্টের খবর নিচ্ছেন। এই এ-প্লাস না পাওয়ার ব্যর্থতাতেই অসহ্য মনে হচ্ছে জীবনটাকে।
দুই মাস পরের কথা, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির এ্যাডমিশন টেস্ট দেবার পরেও কোনোটাতেই চান্স হয়নি শুভর। এত ভালো পড়ালেখা করা সত্ত্বেও চান্স না পাওয়ায় সে অত্যন্ত হতাশ। এমনকি এ প্লাস না পাওয়ায় কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা দেবারই সুযোগ পায়নি সে। এটি নিয়ে তার বাবা মা এখনো তার এইচএসসির রেজাল্ট নিয়ে তাকে কথা শোনায়। পরিবার থেকে অনেকটাই আইসোলেটেড হয়ে গেছে শুভ। ফ্রেন্ড সার্কেলে অনেকেই ভালো ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ায় ওদের সাথেও মেলামেশা কমে গেছে তার। বলা যায় সমাজ থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন সে। প্রায়ই তার মনে হয় এত গঞ্জনা সহ্য করার চাইতে এই ব্যর্থ জীবনকে শেষ করে দেয়াই শ্রেয়। বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভ। তার ভাবনা, এ জীবন রেখে আর কি হবে? মরে গেলেই হয়ত বেঁচে যাবে সে।

শুভর মধ্যে যে ভাবনাটি গড়ে উঠছে তাকে সুইসাইডাল থট কিংবা সুইসাইড আইডিয়েশন নামে অভিহিত করা হয়। আত্মহত্যার চিন্তা করা কিংবা প্ল্যান করাই হচ্ছে সুইসাইডাল আইডেয়শন। ব্যাক্তির মধ্যে এই চিন্তাটি অনেকদিনের গোছানো কিংবা হুট করে আসা দুই ভাবেই হতে পারে। সুইসাইডাল থট অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে সুইসাইডাল থট এর শিকার হন। কোনো বিষয় নিয়ে এ্যাংজাইটি কিংবা ডিপ্রেশন থেকে মানুষ সুইসাইড নিয়ে চিন্তা করে। সাধারণত সুইসাইডাল থট একটি অস্থায়ী বিষয় হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি বিপদজনক এবং ব্যক্তিকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। প্রথমত একজন ব্যক্তি নিজেকে ব্যর্থ, অকেজো ইত্যাদি ভাবা শুরু করে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, বেকারত্ব ইত্যাদি পারিপার্শ্বিক চাপ এবং অবজ্ঞার মুখে এবং তার মনে হয় হয়ত জীবন শেষ করে দিলেই এইসব থেকে মুক্তি মিলবে। এক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় সে কাউকে অনুকরণ করতে চাইছে। সেটি হতে পারে তার পরিবারের কেউ যে কিনা আত্মহত্যা করেছে কিংবা কোনো সেলিব্রেটি। “মরে গিয়ে তো বেঁচে গেছে সে” এই ধরণের চিন্তা লালন করে সে। তার মধ্যে এই ধারণা  আসতে থাকে যে কেউ তাকে বুঝতে চাইছেনা কিংবা কেউ তাকে গ্রাহ্য করছেনা। এইজন্য অনেক ক্ষেত্রে “এ্যাটেনশন সীকিং”কেও ব্যক্তির সুইসাইডাল থট আসার কারণ হিসেবে ধরা যায়। অনেক সময় ব্যক্তি নিজেকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে। সে মনে করে তার জন্যই সকল সমস্যার শুরু, অতএব মরে যাওয়াই শ্রেয়। আমরা আশেপাশে অনেকেই রয়েছে যে কিনা হয়ত প্রতিদিনই অল্প অল্প করে আত্মহননের উপায় নিয়ে চিন্তা করছে, উপকরণ নিয়ে ভাবছে। আমরা হয়ত গ্রাহ্য করছিনা কিংবা বুঝতে পারছিনা। একসময় হয়ত শুনতে পাবো সে সুইসাইড করতে সফল ও হয়েছে।
সুইসাইড নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বর্তমান বিশ্বের ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে সুইসাইড বা আত্মহত্যা একটি বড় সমস্যা। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় দিনকে দিন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এই আত্মহত্যা। বর্তমানে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ সুইসাইড করে। সমগ্র পৃথিবীতে যুবক যুবতীদের মধ্যে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এই সুইসাইড। যদি বাংলাদেশের দিকে তাকাই তবে গত ১ বছরে ১৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছে। এবং প্রতি বছর এই হার বেড়েই চলেছে। একটা মানুষ যখন তার নিজের জীবনের প্রতি সমস্ত আকর্ষণ কিংবা বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলে তখনই সে সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় তার সবথেকে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষদের সংস্পর্শে থাকা।  
প্রতিরোধঃ
এই সুইসাইডাল থট কিংবা সুইসাইড আইডিয়েশন একটি ক্ষণস্থায়ী বিষয় হলেও এটিকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। একজন মানুষ যখন সুইসাইড নিয়ে চিন্তা করে তখন তার কথাবার্তা আচার ব্যবহারে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন সে হয়ত তার প্রিয় কোনো বস্তু যা কিনা সবসময় নিজের কাছে আগলে রাখতো সেটিকে ফেলে দিচ্ছে কিংবা কাউকে দিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে অন্যদের বোঝা হিসেবে দেখছে। তার কথাবার্তার মধ্যেও নিরাশার ছাপ পাওয়া যায়। “বেঁচে থেকে কি হবে?” “আমি মরে গেলেই হয়ত সবার জন্য ভালো” ইত্যাদি কথাও বলতে শোনা যায়। ব্যক্তি মৃত্যুকে নিয়ে কথা বলে। পরিবার কিংবা বন্ধু বান্ধব থেকে নিজেকে আরো বেশি গুটিয়ে নিচ্ছে। এইসমস্ত লক্ষণ দেখা দিলে আমরা ধরে নিতে পারি ব্যক্তির মধ্যে সুইসাইডাল থট বিরাজ করছে। এই সুইসাইডাল থট প্রতিরোধে পরিবার এবং বন্ধুরা বড় ধরণের সাহায্যে এসে থাকেন। কথা বলে, সময় দিয়ে সুইসাইডাল থট থেকে ব্যক্তিকে সরিয়ে আনতে পারেন তারা। ব্যক্তিকে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে সাহায্য করা, তাকে সাহস দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় প্রফেশনাল হেল্প ও প্রয়োজনীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা কিনা সুইসাইডাল থট প্রতিরোধে কাজ করছে। এছাড়া সাইকোলজিস্ট এবং কাউন্সেলররাও প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মূলত কথা বলা এবং শেয়ারিং এর মাধ্যমেই ব্যক্তিকে সুইসাইডাল থট থেকে আস্তে আস্তে সরিয়ে আনা হয়। এছাড়া ব্যক্তি বিভিন্ন থেরাপির সাহায্য ও নিতে পারেন সুইসাইড কোনো সমাধান নয়। আপনার সুইসাইডাল থট আসছে এর মানে এই নয় যে আপনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। আপনার আশে পাশের অনেক মানুষেরই সুইসাইডাল থট আসে এবং অনেকেই এটি থেকে মুক্তি পায়। এখানে সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে কথা বলা। নিজের ভাবনাকে নিজের মধ্যে পুষে না রেখে অন্যের সাথে শেয়ার করা, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা। কথা বলুন, সুইসাইডাল থটকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আপনি ঠুনকো কিছু নন, একটি ব্যর্থতা আপনার গল্পকে শেষ করে দিচ্ছেনা। হয়ত সবেমাত্র তা শুরু। নিজেকে বলুন “My story will not end up in this way.”

আশিক মাহমুদ।

সিদ্ধান্তহীনতা

Share

শুভ এইবার এইচ.এস.সি পরিক্ষা দিয়েছে। সে এখন কোথায় এবং কী নিয়ে পড়বে তা নিয়ে খুব বেশী কনফিউজড। বাবা-মা বলছে মেডিকেলে পড়তে, নিজের ইচ্ছা রসায়ন কারণ তার রসায়ন পড়তে অসম্ভব ভাল লাগে, কিন্তু শুভর বন্ধুরা বলে সে যেহেতু সে ইংলিশে ভাল তাকে আইবিএ নিয়ে পড়তে। এখন শুভর মনে হয় মেডিকালে পড়লে তার বাবা-মা খুশি হবে, আবার নিজের ইচ্ছা কেমিস্ট হওয়ার, কিন্তু বন্ধুরা যা বলছে সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছে না। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে শুভর। কারণ তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি পরিক্ষার প্রস্ততি নিতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই তার। যতদিন যায় ততই চাপে পড়ে শুভ। কোন দিকে যাবে সে? বাবা-মার মেডিকেলে যেতে বলার চাপ মেনে নিবে, নিজের ভাল লাগাকে গুরুত্ব দিবে নাকি বন্ধুদের কথা শুনবে? নিজের সিদ্ধান্তহীনতাবোধে চরম হতাশ শুভ। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বাড়ছে দূরত্ব, ভাল লাগার কাজও এখন আর করতে পারে না। সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে ‘আমি এখন কি করব?’ চিন্তার চাপে সে এখন ছোটখাট সিদ্ধান্ত নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। বন্ধুরা তাকে ‘কনফিউজড শুভ’ নামে ডাকে আজকাল।

উপরে আমরা দেখলাম শুভ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। সময়ের প্রয়োজনে কি করতে হবে সেটা বুঝতে না পারাই সিদ্ধান্তহীনতা। জীবনের প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং মাঝে মাঝে সিদ্ধান্তহীনতা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। যেমন কোন জামাটা পড়ে বাইরে যাব, রেস্টুরেন্টের মেন্যু দেখে বুঝতে না পারা কোনটা রেখে কোনটা ওর্ডার করবে ইত্যাদি। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে যদি দৈনন্দিন জীবনের ব্যাঘাত ঘটে তাহলে এটা চিন্তার বিষয়।  

সিদ্ধান্তহীনতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কিছু উপায় মেনে চলা যায়। যে বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ভুগছে সেটি একটি নোটবুকে লিখা এবং কোন সিদ্ধান্ত নিলে কী হবে সেটি লিখে রাখা। সেই সময়ে ভেবে দেখা কোন সিদ্ধান্ত নিলে হলে কি আউটকাম আসবে। নিজেকে প্রশ্ন করা, ‘আমি কি এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেনে চলতে পারব?’ শুধু আউটকাম চিন্তা করলে হবে না, খুব সূক্ষ্ম ভাবে এর ফলাফলের দিকে তাকাতে হবে। যেমন, ডাক্তার হলে মাথায় রাখতে হবে দিন-রাত যেকোন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে, পরিবার ও নিজের জন্য খুব একটা সময় ব্যয় করা যাবে না। তারপর ভেবে দেখা, নিজের আদর্শের সাথে সিদ্ধান্তটা যাচ্ছে নাকি। বা যে সিদ্ধান্ত নিলেন সেটি আপনার জীবন ধরণের সাথে যায় কিনা। ধরুণ,আপনি যদি আরামপ্রিয় মানুষ হোন, সে ক্ষেত্রে কোন পরিশ্রমের পেশা বেছে নিলে সেটার সাথে খাপ খাওয়াতে বেশ বেগ পেতে হবে। আবার, যে কারোর সাথে সিদ্ধান্তটা নিয়ে কি ভাবছেন তা নিয়ে কথা বলা। খুব জানে এমন মানুষের সাথে কথা বলা লাগবে এমনটা নয়, কারণ দেখা গেছে চিন্তাগুলা কথার মাধ্যমে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু একজন জ্ঞান সম্পন্ন মানুষেরে সাথে কথা বললে সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। আপনি যে সিদ্ধান্তটা নিতে চাচ্ছেন সেটা যারা নিয়েছে, তাদের সাথে কথা বলেও সহজে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। তখন একজন বুঝতে পারবে, সে যে সিদ্ধান্তগুলো ভাবছে সেটি আসলেও প্রয়োগ করা যাবে কিনা এবং সিদ্ধান্তটা নিলে কী হবে। যেমন, একজন মেডিকেলের ছাত্রই আপনাকে বলতে পারবে মেডিকেলে পড়লে আপনার জীবনের পথ কেমন হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনি সেই পথে আগাতে চান কিনা। প্রয়োজনে, একজন কাউন্সিলরের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।

আমরা প্রতিদিন অনেক ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি এবং মাঝে মাঝে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, সিদ্ধান্তহীনতার জন্য যাতে অন্যান্য কাজ বাধাপ্রাপ্ত না হয়।

(নুজহাত জাহানারা)