মন খারাপ জয়ের গল্প

Share

খুব সকালে যখন ঘুম ভাঙে পূর্ণ‘র ,তখন কিছুতেই ওর উঠতে মন চায় না, তবুও মনে মনে ভাবে কেউ যদি একটু আদর করে ঘুম ভাঙাতো …ঠিক এমন সময়ই মা গলা খাকরানি দিয়ে বলে উঠেন, ”আর কতোক্ষণ…… আমার অফিসের সময় হয়ে যাচ্ছে , নাস্তা রইল টেবিলে, খেয়ে নিয়ো“। পূর্ণ কিছুদিন হয় স্কুলে যেতে পারছে না… ওর খুব মাথা ব্যাথা , প্রায়ই শ্বাসকষ্ট হয়,মাঝে মাঝেই সারা শরীরে খিঁচুনি দিয়ে ওঠে ,স্কুলে গেলে আরও বাড়ে কিন্তু বাসায় থাকলে কি কমে ? কই বাসায় থাকলেও তো হয় … ওহহো কথায় কথায় বলাই হয় নি পূর্ণ‘র বয়স ৯, ওরা তিন ভাইবোন , বড় বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভাইটি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র । ভাইবোনদের সাথে বয়সের যেমন তফাতটা বেশি ঠিক তেমনি মনের দূরত্বটাও কম যায় না । কেউ যেন ওকে বুঝতে চায় না আর মা-বাবা তো বলতেই না । স্কুলে যখন যেতো , ও আর যাইহোক অবহেলা ব্যাপারটা কোনমতেই মেনে নিতে পারতো না, কেউ বকলে বা বন্ধুদের সাথে ঝগড়া হলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো কিন্তু পূর্ণ স্কুলে যেতে চায় , বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে চায়,সবার অনেক আদর চায় আর চায় একটু সময় , খুব কি বেশি চেয়ে ফেলেছে সে ?
কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন কারণ উপরের অনেককিছুই পূর্ণ‘র নিজস্ব চিন্তা যার আদতেও কোন ভিত্তি নেই। যেমন পূর্ণ‘র মা-বাবা চাকুরীজীবী হলেও তাকে অনেকটা সময় দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু মুশকিল হল যতক্ষণ কাছে থাকে ততোক্ষণ এটা করো না, ওটা ধরো না , বেশি বেশি পড় ,এইসব বলতে থাকে কিন্তু বেশি পরা-লেখা কেন করা দরকার তা বলেন না ,তাই সে তেমন উৎসাহও বোধ করে না ,ভাইবোনদের সাথে থাকলেও ওর সময়টা এমনই কাটে ।
পূর্ণ আসলে একজন কনভার্সন ডিসঅর্ডারের রোগী। এই রোগে মনের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব এবং চাপ শারীরিক সমস্যায় রুপ নেয়। মনোচিকিৎসক তার রোগটি শনাক্ত করার পর কিছু ঔষধ দেন এবং একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছ থেকে সাইকোথেরাপি গ্রহণের জন্য পাঠান । নিয়মিত মনের জমে থাকা কষ্টের কথাগুলো মনোবিজ্ঞানীকে খুলে বলাতে সে কিছুটা হাল্কা বোধ করতে থাকে আর পাশাপাশি তার পরিবারকে একজন ৯ বছরের আবেগি শিশুর সাথে কেমন ব্যাবহার করা উচিত তা সেখানো শুরু করেন মনোবিদ এবং পূর্ণ ও পরিবার উভয়কে সাথে নিয়ে বসে তাদের মধ্যকার ভুলবোঝাবুঝিগুলো দূর করে সম্পর্কের মান উন্নয়নের চেষ্টা করেন , সেইসাথে পারিপার্শ্বিক সমাজে চলাফেরা করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলার অভ্যাস করা এবং কিছু কৌশল সেখানো হয় । সাইকথেরাপির নিয়মিত সেশন গ্রহণ এবং সেবনে পূর্ণ দ্রুতই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
পূর্ণ এখন ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল । সে প্রায় প্রতি সপ্তাহে বন্ধের দিনগুলোতে পরিবারের সবার সাথে ঘুরতে বের হয় আর ভাইবোনদের সাথেতো বাসায় থাকলে সারাক্ষণই খুনসুটি করা হয় ,ওদের বাড়িটা যেন এখন সবসময় হৈ-হুল্লরে মুখর হয়ে থাকে। ওর কিছু ভালো বন্ধুও তৈরি হয়েছে তাছাড়া ক্লাসের সবার সাথেই ওর অনেক ভাব। টিচারও ওকে অনেক ভালোবাসে। পূর্ণ জয় করে ফেলেছে ওর মনের সব ভয় ।

কনভার্সন ডিসঅর্ডার সম্পর্ক এ আরও জানতে পড়ুন :

https://rx71.co/disease/conversion-disorder/

লেখক:

  1. জেসমিন মাহমুদা জুথি

ভাল্লাগেনা জেনারেশন – কেন আমাদের কোন কিছুই ভালো লাগে না?

Share

illustration by Ahnaf Sahriar showing our unhappy generation

খানিক পর পর ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করছে মাঈশা। ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর ব্রেকাপ পার্টিতে এসেছে সে। নিজের আইফোনে এই মাত্র একটা সেলফি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করলো মাঈশা। এক মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো লাইক আসে নি। দুই মিনিট পর সে আবার চেক করলো— মোটে পাঁচটা লাইক! বিরক্তিতে ভ্রূ কুঁচকে এলো তার। ধুর, কিচ্ছু ভাল্লাগে না!

মাঈশা বাংলাদেশের বিলাসপ্রিয় জেনারেশনের অংশ— তাদের জন্ম মূলত আশির দশকের শেষ থেকে নব্বইয়ের দশক জুড়ে। এই জেনারেশনের একটা বড়ো অংশ শহুরে সুবিধাভোগী উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিলাসপ্রিয় তরুণ সমাজ, যাদের ধারণা তারা একটা বিশেষ গল্পের প্রধান নায়ক বা নায়িকা। মাঈশা তাদেরই একজন। বোঝার সুবিধার্থে এই বিলাসপ্রিয় জেনারেশনের একটা নাম দেয়া যাক: ভাল্লাগেনা জেনারেশন।

মাঈশা নিজের ভাল্লাগেনা জীবন বেশ ভালোই উপভোগ করছে। সমস্যা শুধু একটাই: তার কিছুই ভালো লাগে না। সে রীতিমতো অসুখি। কারণ জানতে হলে আরও গভীরে যেতে হবে। বুঝতে হবে ঠিক কী কারণে একজন মানুষ সুখি কিংবা অসুখি হয়। ইকুয়েশনটা এরকম:

happiness equals to reality minus expectations

আর যখন একটা মানুষের রিয়েলিটি তার এক্সপেক্টেশনের সঙ্গে মিলে না, তখন সে অসুখি হয়। মাঈশার রিয়েলিটি তার এক্সপেক্টেশনের সঙ্গে মিলে নাই। কেনো মিলে নাই? সেটা বুঝার জন্যে মাঈশার বাবা-মায়ের অবস্থাটাও বুঝা জরুরী।

মাঈশার বাবা-মা!

মাঈশার বাবা-মা মাঈশার বাবা-মা জন্মেছেন পঞ্চাশ-ষাটের দশকে। তাদের বড়ো করেছেন মাঈশার দাদা-দাদু, নানা-নানু— যারা গ্রেট ডিপ্রেশনের সময়টায় বড়ো হয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন। অবশ্যই তারা ভাল্লাগেনা জেনারেশনের অংশ না।

মন্দা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় জর্জরিত মাঈশার দাদা-দাদুর মূল ভাবনা ছিলো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রিক। তারা মাঈশার বাবা-মাকে বেশ রিয়েলিস্টিক করে বড়ো করেছেন যেন তারা সবার আগে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে মনোযোগী হয়। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’— নিজের ছেলেমেয়েদের জন্যে এমনটাই চাইতো মাঈশার দাদা-দাদু। আরও চাইতো তাদের ছেলেমেয়েদের লাইফস্টাইল তাদের চেয়ে উন্নত হোক। তাদের বাগান জুড়ে থাকুক প্রাণবন্ত সবুজ ঘাস।

সমৃদ্ধ ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখতে দেখতে মাঈশার বাবা-মা বড়ো হলো। তারা জানতো, তাদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব না। তবে, তার জন্যে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে গড়তে হবে সফল ক্যারিয়ার।

মাঈশার বাবা-মায়ের এক্সপেক্টেশন

প্রথাবিরোধী মনোভাব নিয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর মাঈশার বাবা-মা তাদের ক্যারিয়ারের দিকে মন দিলো। এদিকে সত্তর-আশি-নব্বই দশক পেরিয়ে যেতে থাকলে পৃথিবীর অর্থনীতি অভূতপূর্ব সমৃদ্ধির মুখ দেখলো। মাঈশার বাবা-মা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে উন্নত জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ও আশাবাদী ছিলো।

মাঈশার বাবা-মায়ের রিয়েলিটি

নিজেদের বাবা-মায়ের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও নিশ্চিন্ত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঈশার বাবা-মা মাঈশাকে বড়ো করলো ভীষণ আশাবাদ ও অমিত সম্ভাবনায়। শুধু তারা না, তাদের জেনারেশনের প্রায় সব বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের এমন ভাবে বড়ো করেছে যেন তারা যা চাইবে তাই পাবে। এই শুনতে শুনতে ভাল্লাগেনা জেনারেশন নিজেদের বিশেষ কেউ ভাবতে শুরু করে, যেন পুরো পৃথিবী তাদের কেন্দ্র করে ঘুরছে। তাদের মনে গেঁথে গেছে তারা একটা বিশেষ গল্পের প্রধান চরিত্র। নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তারা অস্বাভাবিক রকম বেশি আশাবাদী হয়ে ওঠে। এতোটাই বেশি যে তাদের বাবা-মায়ের সমৃদ্ধ ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের স্বপ্ন তাদের কাছে পুরনো ধ্যান ধারণা ঠেকতে শুরু করে। তাদের নিজস্ব বাগানে শুধু সবুজ ঘাস থাকলেই হবে না, বাগান জুড়ে অসংখ্য রঙিন ফুল থাকা চাই!

তো ভাল্লাগেনা জেনারেশন সম্পর্কে আমরা যা ধারণা পেলাম, তা অনেকটা এরকম: ভাল্লাগেনা জেনারেশন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

ভাল্লাগেনা জেনারেশনের আকাশ কুসুম কল্পনা

তাদের বাবা-মায়ের নিরাপদ সমৃদ্ধ জীবনের চেয়ে তাদের আরও বেশি কিছু চাই। তাদের বাবা-মায়েরা যেমন একটা সিকিউর লাইফস্টাইল হলেই সন্তুষ্ট থাকতো, তাদের ক্ষেত্রে সেটা হলো না। তারা নিজেদের স্বপ্নের জগতে বসবাস করতে চায়— তাদের পার্সোনাল ড্রিম লাইফ! তাদের জীবনের মূলমন্ত্র একটাই, ‘Follow your passion’, গত বিশ বছর ধরে এটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জনপ্রিয় একটা লাইন। ‘Secure Career’ তাদের জন্যে যথেষ্ট নয়, তাদের দরকার ‘Fulfilling Career’.

বাবা-মায়ের মতো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তাদের চাই, কিন্তু সেই সাথে নিজেদের ক্যারিয়ার থেকে তাদের পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি চাই, যেটা নিয়ে তাদের বাবা-মায়ের কোনো মাথা ব্যথাই ছিলো না। গল্পটা এখানেই শেষ না, আরও অনেক কিছু বাকি। উচ্চাভিলাষী মাঈশাকে ছোটো বেলায় বিভ্রান্তিকর আরও অনেক কিছু বলা হয়েছে। জন্মের পর থেকে সবাই তাকে বলেছে, ‘তুমি স্পেশাল।’

ভাল্লাগেনা জেনারেশন বসবাস করে অদ্ভুত বিভ্রান্তির ভেতর। মাঈশা মনে করে, “সবাই নিজেদের জন্যে একটা ফুলফিলিং ক্যারিয়ার বেছে নিবে ঠিকই, কিন্তু আমি সবার চেয়ে আলাদা, অসাধারণ। তাই আমার ক্যারিয়ার ও লাইফস্টাইল হবে সবার চেয়ে অন্যরকম।” গোটা একটা জেনারেশন এরকম এক অদ্ভুত বিভ্রান্তি নিয়ে মনে করতে থাকে তারা অন্যদের চেয়ে সৌভাগ্যবান, তাই তারা অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। তাদের ফুলেল বাগানে থাকবে রঙিন পঙ্খিরাজ ঘোড়া।

আপনি ভাবছেন, তো এতে বিভ্রান্তির কী আছে?

একটা জেনারেশনের সবাই নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা আর স্পেশাল ভাবতে থাকলে, সেটা বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী! স্পেশাল, অনন্য, অতুলনীয়, অসাধারণ— কিন্তু সবাই যদি অসাধারণ হয়, তাহলে অসাধারণ কথাটার মানে কী থাকলো!

এই মুহূর্তে ভাল্লাগেনা জেনারেশন এই লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবছে, “একদম ঠিক! কিন্তু আমি সত্যিই অসাধারণ!” সমস্যাটা এখানেই।

চাকরির বাজারে প্রবেশ করার পর, ভাল্লাগেনা জেনারেশনের বিভ্রান্তি আরও বাড়তে থাকে। মাঈশার বাবা-মা মনে করতো অনেক বছর হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে সিকিউর ক্যারিয়ার গড়তে হবে। কিন্তু ‘অসাধারণ’ মাঈশা মনে করে আলাদিনের জাদুর চেরাগ ঘষে অসাধারণ ক্যারিয়ার চাইলেই, দৈত্য এসে তার ইচ্ছে পূরণ করে দেবে। যথাসময়ে একটা তুড়ি বাজালেই কাজ হয়ে যাবে!

মজার ব্যাপার হলো, দুনিয়াটা এতো সহজ জায়গা না। দারুণ একটা ক্যারিয়ার গড়তে রীতিমতো সাধনা করা লাগে। রক্ত পানি করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হয়, তারপরও সেখানে পঙ্খিরাজ দূরে থাক, ফুলের দেখা নাও মিলতে পারে। কোনো সফল মানুষের জীবনে সাফল্য এমনি এমনি আসে না।

কিন্তু ভাল্লাগেনা জেনারেশন এই সত্য মেনে নিতে প্রস্তুত না।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের একজন প্রফেসর এবং ‘ভাল্লাগেনা জেনারেশন’ এক্সপার্ট পল হার্ভি বলেন, “এই জেনারেশনের এক্সপেক্টেশন বিভ্রান্তিকর অবাস্তব, কোনো রকম নেগেটিভ ফিডব্যাক সহ্য করার ক্ষমতা তাদের নাই। নিজেদের নিয়ে আকাশ কুসুম কল্পনায় অভ্যস্ত তারা। যোগ্যতার বড়াই ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতা না মিললে তারা হতাশার অন্ধকারে ডুবে যায়। নিজেদের সামর্থ্য ও যোগ্যতার চেয়ে অনেক বেশি সম্মান, পারিশ্রমিক ও মনোযোগ আশা করে তারা, বিনিময়ে কঠোর পরিশ্রম করার কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। তাই এক্সপেক্টেশনের সঙ্গে তাদের রিয়েলিটি কখনোই মিলে না।”

হার্ভি মনে করেন, ভাল্লাগেনা জেনারেশনকে চাকরির ইন্টারভিউতে প্রশ্ন করা উচিত, “তুমি কি তোমার ক্লাসমেট ও কলিগদের চেয়ে নিজেকে সুপিরিয়র মনে করো? কেনো মনে করো?” তিনি বলেন, প্রথম প্রশ্নের উত্তরে ক্যান্ডিডেট যদি হ্যাঁবোধক উত্তর দেয়, কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলার মতো কিছু খুঁজে না পায়, তাহলে বুঝতে হবে সুপিরিয়োরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে সে। ছোটো বেলা থেকে নিজেকে অসাধারণ বলে বিশ্বাস করে এসেছে বলে অতিরিক্ত আত্মসম্মান বোধে আচ্ছন্ন হয়ে আছে সে। নিজেকে অসাধারণ মনে করার পেছনে কোনো কারণ না থাকলেও এই নিয়ে কেউ সন্দেহ পোষণ করলে আঁতে ঘা লাগে তার।

কিন্তু বাস্তব দুনিয়া অন্যরকম, যোগ্যতার মাপকাঠি এখানে মেধা। তাই গ্র্যাজুয়েশনের পর অতল গহ্বরে পড়ে মাঈশা। কারণ তার এক্সপেক্টেশনের সঙ্গে রিয়েলিটি একেবারেই মিলছে না।

উদ্ধত, উচ্চাভিলাষী, বিভ্রান্তিকর মাঈশা ইউনিভার্সিটি পাশ করে বাইরের দুনিয়ায় পা রাখতেই দেখতে পায় তার এক্সপেক্টেশন-রিয়েলিটি ইকুয়েশনের রেজাল্ট নেগেটিভ।

না, এখানেই শেষ নয়। অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। ভাল্লাগেনা জেনারেশনের আরও গভীর একটা সমস্যা আছে।

ভাল্লাগেনা জেনারেশন নিজেদের সমালোচনা ও উপহাস শুনতে শুনতে বড়ো হয়েছে।

মাঈশার বাবা-মা তাদের ক্লাসমেটদের সাফল্য কিছুটা শুনে টুনে থাকলেও, সেভাবে দেখে নাই। সেটা নিয়ে তারা অতো মাথাও ঘামায় নাই। কিন্তু মাঈশার ঘটনা আলাদা— কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। প্রতি মুহূর্তে মাঈশার ইগো আহত করার জন্যে আছে ফেসবুকের রঙিনতম দুনিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মাঈশা প্রতি মুহূর্তে জানতে পারছে, কে কী করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিটা মানুষ তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করে। যারা স্ট্রাগল করছে তারা তাদের বাস্তবতা লুকিয়ে রাখে। অন্যদিকে যারা তাদের ক্যারিয়ারে কিছুটা হলেও সফল, তারা সেটা ঢাক ঢোল বাজিয়ে প্রচার করছে। শুধু ক্যারিয়ার না, রিলেশনশিপের ব্যাপারেও তা সত্যি। ফেসবুক জুড়ে সুখ-সুখ ভাব, সাফল্যের প্রচার, অনেক ভালো থাকার ভান দেখে মাঈশার দুর্দশা আরও বাড়ে।

আগে সে অসুখি ছিলো, এখন রীতিমতো ডিপ্রেসড, ফ্রাস্ট্রেটেড। নিজের সুপিরিয়োরিটি কমপ্লেক্সের সাথে রিয়েলিটি না মিললে মাঈশা ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্সে ভুগতে শুরু করে। এই অবস্থায় মোটামুটি ভালো একটা কিছু করতে গেলেও সেটা নিয়ে তার ভেতরে অসন্তোষ থেকেই যায়।

মাঈশার উদ্দেশ্যে বলতে চাই:

উচ্চাকাঙ্ক্ষী থাকো। বর্তমান পৃথিবীটা উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের জন্যে ভালো জায়গা। ফুলফিলিং ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সুযোগ তুমি পাবে। কীভাবে? সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। পথটা তোমাকেই খুঁজে নিতে হবে। তবে তার জন্যে তোমাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হাল ছাড়লে চলবে না।

নিজেকে অসাধারণ বা স্পেশাল কেউ ভাবা বন্ধ করো। সত্যি বলতে, তুমি স্পেশাল কেউ না। তুমি একজন অনভিজ্ঞ তরুণ। পৃথিবীকে এখনো তেমন কিছু দিতে পারো নি তুমি। তবে, তোমার পক্ষে স্পেশাল হয়ে ওঠা সম্ভব। অনেক বছরের কঠোর পরিশ্রম তোমাকে সত্যি সত্যি অসাধারণ মানুষ করে তুলবে।

নিজেকে ছাড়া বাদবাকি সবাইকে অগ্রাহ্য করো। অন্যের বাগানের ঘাস বেশি সবুজ মনে হওয়াটা নতুন কিছু না, কিন্তু এই ফটোশপের দুনিয়ায় অন্যের বাগান আরও সমৃদ্ধ, আরও উজ্জ্বল, আরও রঙিন মনে হয়। সত্যি বলতে, সবাই তোমার মতোই নিজেকে নিয়ে দ্বিধান্বিত, সন্দেহগ্রস্থ, নিরাশ ও খামখেয়ালি। তুমি যদি তোমার কাজটা ঠিকঠাক ভাবে করো, তাহলে অন্যদের হিংসা করার কোনো কারণ নাই।

মূল: Why Generation Y Yuppies Are Unhappy by Tim Urban

রূপান্তর: ফারাহ্‌ মাহমুদ

All creative arts are created by Ahnaf Shahriar

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি – হৃদয়ের কথা

Share

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি হৃদয়ের কথা।

মানুষ কেবল অস্থিমজ্জাগত কোন একটা বিশেষ প্রাণী নয়। মানুষের একটা হৃদয় আছে। সেই হৃদয়ে অসংখ্য অলি গলি যেমন আছে, তেমনি অনেক কানাগলিও আছে। হৃদয়ের গহীনে মানুষ লালন করে সভ্যতা, সংস্কৃতি। হৃদয় দিয়ে লালন করে সে ভালোলাগা, ভালোবাসা। আবার তার সেই হৃদয়েই স্থান করে নেয় ঘৃণা, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা। শরীরটাতো তার বিচিত্রই। মেরুদন্ড সোজা করে আর কোনো প্রাণী আছে হাটতে পারে? হৃদয়টা আরো বিচিত্র। চিন্তায়, আবেগে, পতিক্রিয়ায়, আচরণে, ব্যক্তিত্বে প্রতিটা মানুষ ভিন্ন, আলাদা, স্বতন্ত্র, একক। শরীরের এনাটমিতেও মানুষে মানুষে অনেক বৈচিত্র রয়েছে। শরীর নিয়ে অনেক কিছু পাওয়া যাবে। আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইল না কেহ।

শরীরের যেমন বিশেষ একটা কার্যক্রম থাকে আমাদের হৃদয়ের ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। মানুষতো অত্যন্ত ভঙ্গুর প্রানী। তার শরীর যেমন ব্যাধি আক্রান্ত হয়, হৃদয়টাও হয়। শব্দের ক্ষেত্রে আপনি হৃদয় বদলে মন, মস্তিষ্ক, আচরণ চিন্তা করে নিতে পারেন। হৃদয় আর মন বলাটা বুঝতে সহজ। মস্তিষ্ক বললে বড় কঠিন লাগে। আচরণ বললে আর্মির কড়া ডিসিপ্লিনড কিছু মনে হয়।

যাই হোক, ধরুন একজন মানুষ। তার শরীরে একটা রোগ হলে আমরা বলি শারীরিক রোগ। আর মনের অসুখ হলে?

কী আবার! মানসিক রোগ।

এই মানসিক রোগ নিয়ে আজকের আলোচনা।
সত্যি বলতে আমরা আজকে একটা বিশেষ মানসিক রোগ নিয়ে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করবো। তথ্য বলা কী ঠিক হবে? সত্যি বলতে আমরা কিছু লক্ষণ বুঝার চেষ্টা করবো যেগুলো আমাদের রোগটা বুঝতে সাহায্য করবে।
তার আগে সতর্কতা!

অনেক সময় আমরা রোগের লক্ষণের সাথে নিজেদের মিলানোর চেষ্টা করি। কিছু লক্ষণ মিলে গেলেই আমরা দুশ্চিন্তায় দর দর করে ঘামতে শুরু করে দেই। সচেতনতা ভালো অতি সচেতনতা ভালো কিছু না। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের মধ্যে রোগ আবিষ্কার করা এবং নিজেকে রোগাক্রান্ত ভাবা ঠিক হবেনা।

রোগটার সংক্ষিপ্ত নাম বিপিডি। বর্ডারলাইন পারসনালিটি ডিসর্ডার।

নাম শুনে বুঝাই যাচ্ছে, এইটা একটা পার্সনালিটি ডিসর্ডার।

অর্থাৎ ব্যক্তিত্বসংক্রান্ত রোগ।

এর নাম বর্ডারলাইন মূলত এই কারণে এটা নিউরিসিস এবং সাইকোসিস এই দুই প্রকারের রোগের মধ্যবর্তি একটি মানসিক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কষ্ট প্রচন্ড। শুধু তাই নয় এই রোগে আক্রান্ত রোগীর পরিবারের সদস্যরাও নানান ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে থাকে।
এই রোগে মানুষটা কিছুতেই তার আবেগের সঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। তার মূল সমস্যার শুরু হবে অন্যদের সাথে তার সুসম্পর্কের অবনতির মাধ্যমে। অর্থাৎ সকল সম্পর্ক ভঙ্গুর। অন্যদের সাথে তার সম্পর্ক, আত্ম প্রতিকৃতি, অনুভুতি এই সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে। মূলত সমস্যা শুরু হয় বয়ঃস্বন্ধি থেকে অথাবা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব সময়ে। এই রোগটা ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশী হয়।

এই মানসিক রোগটির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ কাজ করে। এই লক্ষণ গুলো ডায়াগনসিস অব স্ট্যাটিসটিকাল ম্যানুয়াল পঞ্চম সংশোধনী থেকে নেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমি আমার মত সংযোজন করেছি আবার সংক্ষিপ্ত করেছিও।

  • ১) এসব ব্যক্তি তার পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। সম্পর্ক বিচ্ছেদ তার পক্ষে মানা অসম্ভব। সে বিচ্ছেদের ভয়ে থাকে। বিচ্ছেদ তার চিন্তার কাঠামো, আত্মপ্রতিকৃতি, অনুভূতি আর আচরণ পাল্টে দেয়। প্রত্যখ্যান অর্থ সে একজন খারাপ ব্যক্তি। এমন ব্যক্তি সবসময় একাকিত্বকে ভয় পেয়ে থাকে।
  • ২) ব্যক্তি সম্পর্কের মূল্যায়ন করতে দ্বান্দিক অবস্থান তৈরী করে। একবার কাউকে ভালো বললো তো, একটু পরেই সে খারাপ। এই ধাচ থেকে সে বের হতে পারেনা।
  • ৩) ব্যক্তি আত্মপরিচয় সংকটে ভোগে। তার নিজের সম্পর্কে ধারণার সচ্ছতা থাকেনা। মোদ্দা কথা সে নিজেই জানেনা সে কী
  • ৪) ব্যক্তি নিজের জন্য ক্ষতিকর এমন কাজে জড়িত হয়। যেমন প্রচুর খরচ করা, মাদক গ্রহণ করা, যৌনদোষ, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করা ইত্যাদি।
  • ৫) আত্মহত্যার প্রচেষ্টা, হুমকি দেয়া, নিজেকে আঘাত করা যেমন, হাত পা কাঁটা।
  • ৬) অনুভূতির তারতম্য ঘটে। একবার বিরক্ত তো আরেকবার চিন্তিত। এই মেঘ এই বৃষ্টি।
  • ৭) এইটা জীবনানন্দের কবিতার একটা লাইনের মত “সব কাজ তুচ্ছ হয়, পন্ড মনে হয়, সব চিন্তা — প্রার্থনার সকল সময় শূন্য মনে হয়, শূন্য মনে হয়!” অর্থাৎ ব্যক্তির মধ্যে একটা শূন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি হয় যেখানে সবকিছু তুচ্ছ, ম্লান, অর্থহীন।
  • ৮) ব্যক্তি অযথা রাগ করে, রাগ নিয়ন্ত্রণে ব্যার্থ হয়।
  • ৯) ব্যক্তির মধ্যে নিজস্ব চেতনা থেকে তার আবেগ এবং শরীর, বাহিরের দুনিয়াকে আলাদা মনে করা অর্থাৎ ডিজ-এসোসিয়েশন তৈরী হতে পারে। দৈনন্দিন স্বল্পস্থায়ী চাপের ক্ষেত্রে সে অল্পতেই অন্যদের সন্দেহ করতে শুরু করে এবং মনে করে তাকে অন্যরা সহ্য করতে পারেনা তার ক্ষতি করতে পারে অর্থাৎ ব্যক্তির মধ্যে প্যারানয়েড আইডিয়েশন দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ গুলো কী আপনার মধ্যে আছে?
অনেক বেশী মিল পাচ্ছেন?
কী ভাবছেন?
আতঙ্ক!
ইটস ওকে! লেটস টক।

 

Creative arts by Ahnaf

প্যানিক ডিসঅর্ডার

Share

Panic Disorder by ItsOkay Bangladesh-min

প্রথম প্রথম খালি ভয় লাগে। হটাৎ তীব্র আতংক এ মনে হয় যেন সব কিছু ঘিরে আসছে। নিঃশাস বন্ধ হয়ে আসছে। একবার হয়ত কোনো আকস্মিক ঘটনায় ঘটল। সবাই বললো ভয় পেয়ে গিয়েছে। পানি খেয়ে, বিশ্রাম করে মাথা ঠান্ডা করা হলো।

প্যানিক এটাক এমনি হয়। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই। যেকারোর, যেকোনো সময়ে প্যানিক এটাক হতে পারে। অনেকে জীবনে কখনই এই রুম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় না । অনেকে মানসিক চাপে , শারীরিক অনিয়ম বা আকস্মিক ঘটনায় পড়লে প্যানিক এটাকে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এটিকে অস্বাভাবিক, পাগলামির লক্ষণ বা অন্য কিছু না ভেবে তাৎক্ষণিক সঠিক কিভাবে প্রতিকার করা যায় সেটা ভাবা উচিত।

List of Panic attack symptoms by ItsOkay Bangladesh

 

কিনতু, যখন কেউ বারবার কোনো আপাত কারণ ছাড়াই প্যানিক এটাক এ আক্রান্ত হয়, তখন তা প্যানিক ডিসঅর্ডার এর রূপ নেয়। প্যানিক ডিসঅর্ডার ব্যাধি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নির্ণয় করা হয় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাচল এর মাঝে হটাৎ করে বা অপ্রত্যাশিতভাবে প্যানিক আক্রমনের সম্মুখীন হয় এবং সব সময় একটি আসন্ন আক্রমণের ভয়ে আতঙ্কিত থাকে। এই ক্ষেত্রে আক্রমণ যেকোনো সময় যেমন আনন্দের মুহূর্তে, এমনকি কখনও কখনও ঘুমের সময় ঘটতে পারে।

 

প্যানিক ডিসঅর্ডার যেকোনো সুস্থ এবং হাসিখুশি মানুষের হতে পারে। আবার অনেক সময় প্যানিক এটাক অন্য ডিসঅর্ডারের অংশ হিসাবে ঘটতে পারে, যেমন প্যানিক ডিসঅর্ডার, সোশ্যাল ফোবিয়া, বা বিষণ্নতা। কারণ যেটাই হোক, প্যানিক এটাক সম্পূর্ণ নিরাময় সাধ্য, মানে সঠিক ট্রিটমেন্ট এর মাদ্ধমে আমরা চাইলেই পারি এর প্রতিকার করতে।

 

এই সমস্যার সমাধানের প্রথম ধাপ হচ্ছে আগে লক্ষণগুলোকে নিশ্চিত করা। আমাকে বুঝতে হবে উপসর্গগুলো আসলে প্যানিক এটাক এর লক্ষণ নাকি অন্য কোনো সম্যসা। একটি প্যানিক আক্রমণের লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি সাধারণত হটাৎ করেই দেখা দেয় এবং সাধারণত 10 মিনিটের মধ্যে তাদের শিখরে পৌঁছায়। সর্বাধিক প্যানিক আক্রমণগুলি ২0 থেকে 30 মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, এবং সর্বোচ্চ এক ঘন্টার মতো সময় স্থায়ী হয়।

মাঝে মাঝে বা হটাত একবার দুইবার এই পরিস্থতির শিকার হলে তাতে সাধারনত উদ্দিগ্ন হবার কিছু থাকে না।  কিন্তু প্যানিক ডিসঅর্ডার এর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ভিন্ন এবং আর জতিল হয়। আক্রান্ত ব্যাক্তি ঘন ঘন এই পরিস্থিতির শিকার হয় এবং তার মাঝে সারাখন ভয় কাজ করে এই বুঝি আবার ঘটল।

 List of Panic disorder symptomps by ItsOkay Bangladesh

 

এইতো হল কিভাবে আমরা বুঝব আমাদের প্যানিক ডিসঅর্ডার আছে নাকি। যদি মনে হয় হ্যা, তাহলে সবার আগে যা করতে হবে তা হচ্ছে তাহল একে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি রোগ হিসেবে দেখে  এর চিকিৎসা করা। অনেকেই এই ধরনের সমসসা কাউকে খুলে বলেন না নিজেকে পাগল বা কোন কাজের অযোগ্য হিসেবে খ্যাত না করতে। কিন্তু আমরা বুঝি না, যেকোন রোগ, তা শরীরের হোক বা মনের, তা লুকালে আর বর এবং ভয়ঙ্কর কিছুর রুপ নেয়।

প্রথমেই একটি জার্নাল বা ডায়েরিতে অভিজ্ঞতাগুলো লিখে রাখা ভালো, এতে কত ঘন ঘন হচ্ছে বা কোন কোন লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে তার হিসাব রাখা যায়, ডাক্তারকে সঠিক তথ্য দিয়ে আসলেই প্যানিক ডিসঅর্ডার কিনা তা সহজ সনাক্ত করতে সাহায্য করা যায়।

সনাক্ত করা হলে ডাক্তার হয়ত আপনাকে কোন মানসিক ডাক্তার বা স্পেসিয়ালিস্ট এর কাছে পাঠাবেন। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে কথা বলে আপনার জন্য সবচেয়ে মানানসই চিকিৎসা আপনার জন্য নির্ধারণ করতে হবে।

প্যানিক ডিসঅর্ডার সাধারণত মনঃসমীক্ষণ (Psychotherapy) বা ঔষধ ব্যবস্থা অথবা উভয়ের প্রয়োগ করে ঠিক করা হয়। 

মনের ভয় যখন আতঙ্কের রুপ নেয় তা অবশ্যই মানুষকে ভীষণ একা, নিয়ন্ত্রণহীন এবং দুর্বল করে ফেলে। কিন্তু নিজের সমস্যা নিজের কাছে লুকিয়ে রাখা বা সঠিক সমাধানের চেষ্টা না করাই সবচেয়ে বর ভুল। মনের ভয় তখন দিনে দিনে বড় হয়ে আর নতুন কোন রোগের রুপ নিয়ে ফেলে এবং আপনার উপরেই আপনাকে জয় করে ফেলে। তাই প্যানিক না হয়ে, নিজের মনকে জয় করুন।

 

FOMO- Fear Of Missing Out

Share

FOMO Banner

যখন মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক আবিষ্কার করছিলেন, তখন প্যাট্রিক ম্যাকগিনিস হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে এসেছেন।

এই সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মটির যাত্রার সাথে সাথে ফোমো-ফিয়ার অব মিসিং আউট- এর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলো। তখন প্যাট্রিক এবং তার বন্ধুরা অতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করলো,  বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা থেকে প্রতিটা ফ্যাকাল্টির ক্লাসে যাওয়া শুরু করলো। প্রতিটা বর্ণনা,  চিত্তাকর্ষক এবং প্রতিটি নতুন নতুন চিন্তা তাদের মন ও মস্তিষ্ককে আর আকর্ষণ করতে লাগল।

প্রথমত,  এটির আবির্ভাব ঘোটে একজন প্রিয় সহোদর হবার চেষ্টায় যাকে বলা হয় FOBO- Fear of a Better Option  যাই হোক, সময়ের বেগে তা খুব একটা পাত্তা পেলনা।

দ্বিতীয়ত, এই দুটি দুর্ঘটনা ব্যক্তিগত বিভ্রান্তি এবং সফলতার শত্রু। এখানে প্যাট্রিক এর সমস্যাটাকে দেখেন এইভাবে যে:

“ফোমো হচ্ছে … একটি অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম এবং এটি আপনাকে নিজেকে ব্যাহত করার থেকে বাধা দেয় কারণ আমি মনে করি আপনার ফোকাসের অভাব রয়েছে। FOMO এর একটি ইতিবাচক পার্শ্ব এটিতে আপনার গোপন স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাগুলিকি তা আপনাকে জানাতে পারে। যদি আপনি ফোমোর ভুক্তভুগি হয়ে থাকেন যে যেমন করেই হোক,  আপনি পিয়ানো বাজাবেন তাহলে অবশ্যই বাইরে যেতে হবে এবং পিয়ানো পাঠ নিতে হবে।কিন্তু আমি দেখবেন পিয়ানো শিখার জন্য যা যা করার আপনি সেগুলোর পিছনে ছুটতে থাকবেন এবং শুরুও করতে পারবেন না এই চিন্তা করে যে আমি এখনও তৈরি নয়।

 

FOMO আমাদের নিজেদের বিভ্রান্ত করার পরিবর্তে নিজেদেরকে বিভ্রান্ত করার দিকে পরিচালিত করে FOBO, প্যাট্রিকবলে, এমনকি আরো বিষাক্ত হয়; এখানে পাওয়া যাবেনা অনেক পরিত্রাণ মূল্য। “এটি এমন ধারণা যে আপনি কোনও কিছু করতে  চান না কারণ আপনি সেরা জিনিসটির জন্য অপেক্ষা করছেন এবং তাই আপনার বিকল্পগুলি বাতাসে ঝুলিয়ে রাখেন এবং অপেক্ষা করেন আপনার প্রিয় সুযোগের জন্য।

 

“শেষ পর্যন্ত এটি স্বার্থপর হয়ে আপনার পছন্দসই সময়ে শুধুমাত্র আপনার জন্য ভাল কাজ করে যখন আপনি অপেক্ষা বা ব্যাগ ধরে ঝুলে থাকেন অন্যান্য লোকেদের ছেড়ে।

 

আপনি FOMO  বা FOBO  দ্বারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পরিবর্তে আপনি আজ দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে আপনি সব সম্ভাবনা দেখতে পারেন না,   শুধু শুরুর পথবেতিত –  সম্ভবত 10% শতাংশ উদ্যোক্তা হয় ঠিক আপনার জন্য সঠিক প্রেসক্রিপশন এবং এটি বিকাশ পায়।

 

হার্ভার্ডে তার সাম্প্রতিক (২017) প্রারম্ভিকবক্তৃতায়, মার্কজুকারবার্গ বলেন, “আমি Facebook  শুরু করার আগে মানুষকে সংযোগের সবকিছু সম্পর্কে যদি বোঝাতাম,   তবে আমি কখনোই ফেসবুক শুরু করতে পারতাম না। সিনেমা এবং পপসংস্কৃতি এইসব ভুল পেতে। একটি ইউরেকা মুহূর্তের ধারণাটি একটি বিপজ্জনক মিথ্যা। আমরা আমাদের এরকম মুহূর্তর জন্য অপেক্ষা করে আর কষ্ট পাই এবং তা আমাদের মাঝে অপর্যাপ্ততাবোধ গড়ে তোলে।

 

Author: Mohammad Abdul Majid