অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার

Share

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder-ASD) হলো একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার যা পরিপূর্ণ বিকাশের পথে বিভিন্ন ধরনের প্রকট ও পরিব্যাপক বাঁধার সৃষ্টি করে। ‘অটিজম’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘autós’ যার অর্থ হলো ‘নিজ’ বা self থেকে। অটিজম হচ্ছে অাচরণ সম্পর্কিত অবস্থা, যা জ্ঞাত এবং অজ্ঞাত শারিরীক,মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ফাংশানের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত শিশুর ৩ বছর বয়সের মধ্যেই এই আচরণগত সমস্যাগুলো দেখা যায়। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার কোন একটি ডিজঅর্ডার নয়, বরং ‘স্পেকট্রাম’ শব্দটি থেকে আমরা ধারণা পেতে পারি যে এটি কতগুলো ডিজঅর্ডারের সমন্বয়ে সংজ্ঞায়িত হয়েছে।

Diagnostic Statistical Manual for Mental Disorders (DSM-5) এর মতে, অটিজম স্পেকট্রামের অন্তর্ভূক্ত ডিসঅর্ডারগুলো হলো:

অটিস্টিক ডিসঅর্ডার (Autistic Disorder)

অটিস্টিক ডিসঅর্ডার হল অটিস্টিক স্পেকট্রামের অন্তর্ভূক্ত সকল লক্ষণসমূহের সমন্বিত একটি ডিসঅর্ডার।এ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির শিক্ষণজনিত সমস্যা থাকে। গড় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একজন মানুষও অটিজমের শিকার হতে পারে। এটাকে “হাই ফাংশনিং অটিজম” বলা হয়ে থাকে।

অ্যাসপারগার ডিসঅর্ডার (Asperger Disorder)

এই ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝারি কিংবা উচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা থাকতে পারে।এছাড়াও এদের ভাষাসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।

পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার-নট আদারওয়াইজ স্পেসিফাইড ( Pervasive Developmental Disorder-not otherwise specified)

একে ‘Atypical Autism’ ও বলা হয়ে থাকে। এই ডিসঅর্ডারের ডায়াগনসিস সম্পূর্ণভাবে অটিজম ডিসঅর্ডার বা অ্যাসারগার ডিসঅর্ডারের সাথে না মিললেও কাছাকাছি ধরনের সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষ হয়।

 

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের ইতিহাস:

‘অটিজম’ টার্মটি সর্বপ্রথম ১৯০৮ সালে করেন একজন সাইকিয়াট্রিস্ট, ইউজেন ব্লিউলার উল্লেখ করেন। তিনি একজন সিজোফ্রেনিয়ার পেসেন্টকে ব্যাখা রার জন্য সর্বপ্রথম এই টার্মটির ব্যবহার করেন। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের সর্বপ্রথম অগ্রদূত হলেন হ্যানস অ্যাসপারগার এবং লিও ক্যানার। তারা ১৯৪০ সালে তাদের পৃথক কাজের মাধ্যমে এটি নিয়ে গরষণা করেছেন।

১৯৪৩ সালে আমেরিকান শিশুমনোবিজ্ঞানী লিও ক্যানার ১১ জন শিশুকে নিয়ে গবেষণা করে। তার গবেষনায় দেখা যায়, ওই সকল শিশুদের স্মৃতি, সামাজিক যোগাযোগ, শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন, উদ্দীপকের প্রতি সংবেদনশীলতা, সহনশীলতা, খাবারে এলার্জি, বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দক্ষতা, বক্তার একই কথার পুনরাবৃত্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যায়।

১৯৪৪ সালে হ্যানস অ্যাসপারগার আরো একদল শিশুক সেরটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর’ ব্যবহার করা হয়। কারো মাঝে ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে তাদের ‘মেলোটনিন’ ব্যবহার হয়। এপিলেপসির সমস্যা দেখা দিলে ‘অ্যান্টিকনভালসেন্ট’ মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। যদি ব্যক্তির মাঝে Attention Deficit Hyperactivity Disorder দেখা যায়, তবে তাকে ” মেলানফেনিডেট” প্রেস্ক্রাইব করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সোশাল লার্নিং প্রোগ্রাম, লেসার অ্যাক্টিভিটি প্রোগ্রাম ব্যক্তির দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।

 

ASD আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের পিতামাতার ভূমিকা অপরিহার্য।থেরাপি এবং মেডিকেশনের পাশাপাশি পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা ও সহায়তা অনেক বেশি জরুরি যা মাধ্যমে শিশুর অ্যাংকজাংটি অনেকাংশে কমানো সম্ভব ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।এক্ষেত্রে পিতামাতার করণীয় হতে পারে-

শিশুকে তার নাম ধরে ডাকা যাতে করে সে বুঝতে পারে যে তাকে সম্বোধন করা হচ্ছে। যতটা সম্ভব কম শব্দের মধ্যে শিশুকে রাখা।

সহজ ভাষায়, ধীরে ও স্পষ্টভাবে তার সাথে কথা বলা

কথা বলার সময় সহজ অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার করা শিশুকে কথা বুঝতে দেবার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়া

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের আক্রান্ত ব্যক্তি তুলনামূলক স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

 

পরিশেষে বলা যায় যে, উপযুক্ত পারিপার্শ্বিক অবস্থা,থেরাপি,মেডিকেশন এবং সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের আক্রান্ত ব্যক্তি তুলনামূলক স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

লিখেছেন – সাদিয়া সানজিদা অধরা

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share