মেজাজ যখন এটম বম্ব

Share

আহসান হাবিব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।সারাদিন বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে কাজ করতে হয় তাকে।

একদিন সকালে নাস্তা দিতে দেরী করায় রেগে গিয়ে সে তার স্ত্রী’কে খুব বকাঝকা করলেন এবং রাগ করে সকালের নাস্তা না খেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন।অফিসে যাওয়ার পথে তার গাড়ির সাথে একটি রিক্সার ধাক্কা লাগলে তিনি রেগে গিয়ে রিকশাচালকে থাপ্পড় দিয়ে বসলেন।সেদিনই অফিসে সে তার কাছের একজন কলিগের সাথে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা শুরু করলেন।যেহেতু সারাদিন বিভিন্ন কারণে রেগে ছিলেন, বাসায় এসেও মন ভালো ছিল না তার। আহসান হাবিবের ৫ বছরের সন্তান যখন তার কাছে বিভিন্ন বায়না করছিলো তখন তিনি রেগে গিয়ে বাচ্চার উপর চিৎকার করা শুরু করলেন।

রাগ করা খুব স্বাভাবিক এবং এর প্রকাশ করাটাও খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কেউ খুব ছোট বিষয়ে হঠাৎ রেগে যান আবার কেউ খুব সহজে রাগ না করলেও রাগান্বিত অবস্থায় বেশ ভয়ংকর হয়ে উঠেন। আবার অনেকে আছেন তারা রাগ করলেও সেটিকে প্রকাশ করেন না, বরং ঠান্ডা মাথায় সেটিকে মোকাবেলা করেন। তবে রাগের  ধরণ যেমনই হোক না কেন রাগ আমাদের ক্ষতি ছাড়া ভাল কিছু করেনা।রাগের অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে। অতিরিক্ত রাগকে স্ট্রেসফুল ডিজিজের কারণ হিসেবে দেখা হয়। রাগান্বিত ব্যক্তি হঠাৎ করেই অধিক পরিমাণে উত্তেজিত হয়ে পড়েন যা কিনা ব্যক্তিকে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া অস্বাভাবিক রাগ ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। দীর্ঘ সময় ধরে যদি ব্যাক্তি রাগের মধ্যে দিয়ে যায় তবে সেই ব্যাক্তির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে।তাই ব্যাক্তির রাগ কন্ট্রোল করা শিখে নেওয়াটা খুবই জরুরী।

যেভাবে রাগকে কন্ট্রোল করা যেতে পারে-

০১।আপনার রাগের কারণগুলো জানুন।যেসব বিষয় আপনাকে রাগিয়ে দেয় সেগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।

০২।যখনই কোন বিষয় নিয়ে রাগ অনুভব করছেন তখন একটু ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন।

০৩।যেসব কাজ,আলোচনা বা তর্ক আপনাকে রাগিয়ে দেয়,সেসব এড়িয়ে চলুন;প্রয়োজনে একটু বিরতি নিন।

০৪।কারো আচরণ যদি আপনার রাগের কারণ হয়  তবে সেই ব্যাক্তিকে তা বুঝিয়ে বলুন।তার আচরণে কষ্ট পাচ্ছেন তা প্রকাশ করুন।

০৫।অফিসে কলিগের সাথে রেগে গেলে তাৎক্ষণিক ঐ স্থান ত্যাগ করুন।প্রয়োজনে একটু বাইরে থেকে হেঁটে আসতে পারেন।

০৬।প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ ঘুমান।

০৭।নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

০৮।প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন।

০৯।পজিটিভ হওয়ার চেষ্টা করুন।

১০।রাগগুলোকে মনে পুষে না রেখে রাগের কারণগুলোকে ব্যাখা করুন।দেখবেন রাগ অনেকটা কমে যাচ্ছে।

যখন আমরা রাগ করি তখন আমরা মূলত নিজেদেরকেই কষ্ট দেই এবং কাছের মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলি।রেগে না গিয়ে শান্তভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারাই মূলত এ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট টেকনিক।  রাগ করা ছাড়াও যে সমস্যার সমাধান করা যায় তা শিখে নেওয়া জরুরী।রাগ কন্ট্রোল করে সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করার জন্য প্রয়োজনে যে কেউ সাইকোলজিস্টের কাছ থেকে কাউন্সেলিং সেবাও নিতে পারেন।

অন্তরা অন্তু

Loved this article? Share with your community and friends.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share